বাংলাদেশে শিক্ষা

বাংলাদেশে শিক্ষা স্কুলশিক্ষা, শিক্ষানবিশি, ভাষাশিক্ষা, উচ্চশিক্ষা এবং আরও দক্ষতা উন্নয়নকে অন্তর্ভুক্ত করে। এসব পথের প্রবেশের শর্ত, ব্যবহারিক বা একাডেমিক অভিমুখ, সময়কাল, ফি, মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি ভিন্ন। সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, কোম্পানি, প্রশিক্ষণ প্রদানকারী এবং বেসরকারি সংস্থা এগুলো পরিচালনা করে; আর অবস্থান, আয়, প্রতিবন্ধিতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সুযোগপ্রাপ্তি ভিন্ন হতে পারে।

Tip

বাংলাদেশে শেখার পথ বেছে নিন শুধু নাম বা বিজ্ঞাপিত ফি দেখে নয়, আপনার প্রয়োজনীয় ফলাফলের ভিত্তিতে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রদানকারী, পূর্ণ খরচ, সময়সূচি, সুযোগপ্রাপ্তি, মূল্যায়ন এবং স্বীকৃতি যাচাই করুন। নির্দিষ্ট স্কুল, প্রতিষ্ঠান, নিয়োগকর্তা বা পরবর্তী কর্মসূচি কোনো সনদ গ্রহণ করলেই কেবল সেটি কার্যকর।

শিক্ষানবিশি

বাংলাদেশে শিক্ষানবিশিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত পেশায় তত্ত্বাবধানে কর্মক্ষেত্রের অনুশীলনের সঙ্গে পরিকল্পিত শিক্ষা যুক্ত হয়। নিয়োগকর্তা-পরিচালিত শিক্ষানবিশির আনুষ্ঠানিক আইনি কাঠামো আছে, তবে একক দেশব্যাপী দ্বৈত ব্যবস্থা নেই। উস্তাদ বা কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন মাস্টারের কাছে অনানুষ্ঠানিক শেখা এখনও প্রচলিত; প্রশিক্ষণদাতা, মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি অনুযায়ী সনদ ও প্রশিক্ষণের মান ভিন্ন হয়।

শিক্ষা

বাংলাদেশের বিদ্যালয় ব্যবস্থা প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাধারণত ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি, এরপর ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি, ৯ম থেকে ১০ম শ্রেণিতে SSC বা সমমানের যোগ্যতা এবং ১১শ থেকে ১২শ শ্রেণিতে HSC বা সমমানের যোগ্যতা থাকে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাধারণত বেতন লাগে না, তবে পোশাক, লেখার সামগ্রী, যাতায়াত, খাবার, পরীক্ষা ও ব্যক্তিগত পড়ানোর অতিরিক্ত খরচ প্রায়ই হয়। বিদ্যালয়ের ধরন, অবস্থান, আয়, প্রতিবন্ধিতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনুযায়ী প্রবেশাধিকার ও উপস্থিতি বদলে যায়।

ভাষা শিক্ষা

বাংলাদেশে ভাষা শেখার মধ্যে বাংলা সাক্ষরতা, ইংরেজি শিক্ষা, সংখ্যালঘু ভাষার সামগ্রী, বিদেশি ভাষার কোর্স, পরীক্ষা ও ডিজিটাল পড়াশোনা রয়েছে। বাংলা রাষ্ট্রভাষা ও যোগাযোগ এবং শিক্ষার প্রধান ভাষা; জাতীয় স্কুল পাঠ্যক্রমে বাংলা ও ইংরেজি পড়ানো হয়। স্কুল, সরকারি কর্মসূচি, বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি সেবাদাতা ও বাইরের পরীক্ষাভেদে প্রবেশাধিকার, ফি, সময়সূচি ও স্বীকৃতি আলাদা।

পড়াশোনা

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা সমমানের প্রতিষ্ঠানে কাঠামোবদ্ধ পড়াশোনা বোঝায়, যা স্বীকৃত একাডেমিক বা উচ্চশিক্ষার যোগ্যতা দেয়। সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ অথবা বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ ও উন্মুক্ত-শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়া যায়। ভর্তি, ফি, শিক্ষাপঞ্জি ও অগ্রগতি প্রতিষ্ঠান ও কর্মসূচিভেদে অনেকটাই আলাদা।

দক্ষতা উন্নয়ন

বাংলাদেশে দক্ষতা উন্নয়নের মধ্যে পেশাগত জ্ঞান হালনাগাদ, গভীর করা বা বাড়ানোর জন্য সংগঠিত কোর্স ও স্বশিক্ষা রয়েছে। আনুষ্ঠানিক, অনানুষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরের শিক্ষা—সব ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে; স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারিক কোর্স থেকে সনদপ্রাপ্ত যোগ্যতা পর্যন্ত। সরকারি সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি এবং বেসরকারি সংস্থা মিলিতভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করে।