প্রেমের সম্পর্কে স্নেহ বা আকর্ষণের সঙ্গে এমন একটি সংযোগ থাকে, যেটিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রোমান্টিক বলে বোঝেন। সম্পর্ক কত দ্রুত এগোবে এবং কোন পরিচয়টি মানানসই, তা প্রত্যেক দম্পতি নিজেরা ঠিক করেন। যুক্তরাজ্যে মানুষ বন্ধু, কাজ, পড়াশোনা, সামাজিক কার্যকলাপ, কমিউনিটির পরিসর বা ডেটিং পরিষেবার মাধ্যমে পরিচিত হতে পারেন। প্রথম দিকের সাক্ষাৎকে প্রায়ই ডেট বলা হয়, তবে শুধু একটি পরিচয়ের ওপর নির্ভর না করে নিজের উদ্দেশ্য জানানো ভালো। ডেটিং করলেই একে অপরের প্রতি একনিষ্ঠতা বা দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি তৈরি হয় না। দম্পতির আলোচনা করা উচিত, তাঁরা অন্য কারও সঙ্গে দেখা করছেন কি না, তাঁদের কাছে প্রতিশ্রুতির অর্থ কী এবং কোন তথ্য তাঁরা ব্যক্তিগত রাখতে চান। প্রতিটি রোমান্টিক ও যৌন পরিস্থিতিতে সম্মতি স্পষ্ট, স্বেচ্ছায় দেওয়া এবং চলমান হতে হবে। কেউ নিজের মত বদলাতে পারেন; নীরবতা, চাপ, নেশাগ্রস্ত অবস্থা বা আগের সম্মতি বর্তমান সম্মতির বিকল্প নয়। দম্পতিরা আলাদা থাকতে পারেন, একসঙ্গে বসবাস করতে পারেন, সিভিল পার্টনারশিপ করতে পারেন বা বিয়ে করতে পারেন। এসব ব্যবস্থার ব্যবহারিক ও আইনি প্রভাব ভিন্ন হতে পারে, তাই শুধু স্নেহের সম্পর্ককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনি মর্যাদা বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। দৈনন্দিন সঙ্গিত্বে সময়, অর্থ, ঘরের কাজ, বন্ধু, পরিবার, যত্ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত থাকতে পারে। নিয়মিত কথা বললে ভিন্ন ধারণাগুলো বড় বিরোধে পরিণত হওয়ার আগেই সামনে আসতে পারে। সুস্থ সম্পর্কের সঙ্গীরা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, স্বাধীনতা, পরিচয় এবং বাইরের সম্পর্ককে সম্মান করেন। নজরদারি, অপমান, হুমকি, বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া, অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা জোর করে যোগাযোগ করানো ভালোবাসার স্বাভাবিক প্রকাশ নয়—এগুলো সতর্কসংকেত। প্রেমের সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে, ধরন বদলাতে পারে বা শেষ হতে পারে। সম্মানজনক বিচ্ছেদ স্পষ্ট ও নিরাপদ হওয়া উচিত, তবে কারও অন্যজনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভয় থাকলে বাইরের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
যুক্তরাজ্যে প্রেমের সম্পর্ক
যুক্তরাজ্যে প্রেমের সম্পর্ক ডেটিংয়ের মাধ্যমে শুরু হয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সঙ্গিত্ব, একসঙ্গে বসবাস, সিভিল পার্টনারশিপ বা বিয়েতে গড়াতে পারে। দম্পতিরা সঙ্গী, প্রেমিক, প্রেমিকা, স্বামী বা স্ত্রী এবং সিভিল পার্টনারসহ নানা পরিচয় ব্যবহার করেন। সম্পর্কের ধরন স্বাধীনভাবে বেছে নেওয়া উচিত এবং এতে জড়িত প্রত্যেকের কাছে তা স্পষ্ট হওয়া উচিত।
Tip
যুক্তরাজ্যে বড় আবেগগত, আর্থিক বা গৃহস্থালি প্রতিশ্রুতির আগে প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলুন। নিজের অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ নথি, বিশ্বস্ত যোগাযোগ এবং নিরাপদ আশ্রয়ে প্রবেশাধিকার বজায় রাখুন। শুধু স্নেহপূর্ণ কথা বা ক্ষমা চাওয়া নয়, বারবার দেখা আচরণ দিয়ে সম্পর্ক বিচার করুন।

