পারস্পরিক আগ্রহ, স্নেহ, বিশ্বাস বা সহায়তার ভিত্তিতে স্বেচ্ছায় গড়ে ওঠা সম্পর্কই বন্ধুত্ব। এর কোনো একটিমাত্র বাধ্যতামূলক ধরন নেই; এটি অল্প সময় স্থায়ী হতে পারে, আবার জীবনের অধিকাংশ সময়ও থাকতে পারে। যুক্তরাজ্যে মানুষ প্রায়ই স্কুল, কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পাড়া, শখ, খেলাধুলা, স্বেচ্ছাসেবা, ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং পরিচিতজনের মাধ্যমে বন্ধু হন। অনলাইন কমিউনিটিও অর্থবহ বন্ধুত্বের দিকে নিয়ে যেতে পারে। অনেক পরিস্থিতিতে অনানুষ্ঠানিক শব্দ ‘মেট’ প্রচলিত। এর অর্থ ঘনিষ্ঠ বন্ধু, সাধারণ বন্ধু অথবা কাউকে বন্ধুসুলভভাবে সম্বোধন করা হতে পারে—তাই প্রসঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ। বারবার দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে বন্ধুত্ব প্রায়ই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। একসঙ্গে করা নিয়মিত কাজ, আমন্ত্রণ, আগে বলা কথা মনে রাখা এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা—এগুলো পরিচিতিকে বিশ্বাসে রূপ নিতে সাহায্য করে। বন্ধুরা বাড়িতে, ক্যাফেতে, পার্কে, কমিউনিটি স্থানে বা আয়োজিত কার্যকলাপে দেখা করতে পারেন। বিশেষ করে দূরে থাকলে কিছু বন্ধুত্ব মূলত বার্তা বা ফোনালাপের মাধ্যমেও টিকে থাকে। সবাই স্বচ্ছন্দ থাকলেই রসিকতা ও বন্ধুসুলভ খোঁচা উষ্ণতার প্রকাশ হতে পারে। কোনো কৌতুক বিব্রত করলে, বাদ পড়ার অনুভূতি দিলে বা কষ্ট দিলে তা থামানো উচিত। ভালো বন্ধুত্বে আলাদা আগ্রহ ও অন্য সম্পর্কের জন্যও জায়গা থাকে। কোনো বন্ধুই অন্যের সময়, মনোযোগ, ব্যক্তিগত তথ্য বা সামাজিক পরিসরের মালিক নন। স্থানান্তর, কাজ, যত্নের দায়িত্ব, অসুস্থতা বা অগ্রাধিকারের পরিবর্তনে বন্ধুত্বের ধরন বদলাতে পারে। খোলামেলা কথা বললে সম্পর্ক বজায় থাকতে পারে, তবে কিছু বন্ধুত্ব স্বাভাবিকভাবেই কম সক্রিয় হয়ে পড়ে বা শেষ হয়।
যুক্তরাজ্যে বন্ধুত্ব
যুক্তরাজ্যে বন্ধুত্ব সাধারণত একসঙ্গে সময় কাটানো, বিশ্বাস, রসবোধ, যত্ন এবং নির্ভরযোগ্য আচরণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। বন্ধুরা একে অপরকে বন্ধু, ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা ‘মেট’ বলতে পারেন, যদিও এই শব্দগুলোর অর্থ ভিন্ন হতে পারে। প্রতিদিন দেখা না হলেও বন্ধুত্ব গভীর হতে পারে।
Tip
যুক্তরাজ্যে বন্ধুত্ব দৃঢ় করতে স্পষ্ট পরিকল্পনা করুন এবং কথা রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনা মনে রাখা বা কঠিন দিনের পর খোঁজ নেওয়ার মতো দৈনন্দিন উপায়ে যত্ন দেখান। সময়ের সঙ্গে সহায়তা, সম্মান ও প্রচেষ্টা উভয় দিক থেকেই আসছে কি না লক্ষ করুন।

