নেপালের প্রাকৃতিক ভূদৃশ্যের মধ্যে উচ্চ হিমালয়, উচ্চ পর্বত, মধ্য পর্বত, চুরিয়া বা শিওয়ালিক পর্বতমালা এবং তরাই রয়েছে। বন ও অন্যান্য বৃক্ষাচ্ছাদিত জমি দেশের উল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে, তবে প্রকাশিত পরিসংখ্যান পদ্ধতিভেদে আলাদা: বন গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জাতীয় বন মূল্যায়নে 44.74%, আর বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক পর্যালোচনায় 46.08% বলা হয়েছে; সেখানে একই পদ্ধতি বা সময়সীমা ব্যবহৃত হয়নি। তাই এই সংখ্যাগুলোকে একই পরিমাপ ধরে একত্র করা উচিত নয়। সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণাগার, শিকার সংরক্ষণাগার, সংরক্ষণ এলাকা ও বাফার জোন আছে। জাতীয় উদ্যান ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের National Parks Explorer-এর ২০২৬ উপস্থাপনায় 21টি সংরক্ষিত এলাকা তালিকাভুক্ত। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের একটি ভিত্তিতথ্যে 12টি জাতীয় উদ্যান, একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণাগার, একটি শিকার সংরক্ষণাগার, ছয়টি সংরক্ষণ এলাকা ও 13টি বাফার জোনের কথা আছে; মোট আয়তন 34,419.75 বর্গকিলোমিটার, যা নেপালের 23.39%। ছায়ানাথ জাতীয় উদ্যান নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা যায়, তাই বর্তমান সরকারি মোট আয়তন ও শ্রেণিভিত্তিক হিসাব পুরোপুরি একীভূত নয়। জলাভূমি নেপালের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের আরেকটি বড় অংশ। দেশে আনুমানিক 242টি জলাভূমি আছে, যার আয়তন প্রায় 743,500 হেক্টর; 60,561 হেক্টর জুড়ে 10টি রামসার স্থান রয়েছে। এর মধ্যে কোশি টাপ্পু, বিশহাজার, ঘোড়াঘোড়ি, জগদীশপুর, গোকিও, গোসাইকুণ্ড, ফোকসুন্ডো, রারা, মাই পোখারি এবং পোখরার হ্রদগুচ্ছ রয়েছে। জলাভূমি পাখি, জলজ প্রজাতি, পানি সঞ্চয় ও স্থানীয় জীবিকায় সহায়তা করে। নেপালের বন্যপ্রাণীর মধ্যে তরাই অঞ্চলে একশৃঙ্গ গণ্ডার, বেঙ্গল বাঘ, এশীয় হাতি ও ঘড়িয়াল; হিমালয় অঞ্চলে তুষার চিতা, নীল ভেড়া বা নাউর, কস্তুরী হরিণ, হিমালয় কালো ভালুক ও ডানফে রয়েছে। শাল, রডোডেনড্রন, আল্পাইন উদ্ভিদ এবং ঔষধি ও সুগন্ধি গাছ নেপালের উদ্ভিদের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। উদ্ভিদ সম্পদ বিভাগ গাছপালা নথিবদ্ধ ও শনাক্ত করে, স্বস্থানে ও স্বস্থানের বাইরে সংরক্ষণে সহায়তা করে এবং চাষের প্রযুক্তি উন্নয়ন করে। সংরক্ষিত ও CITES তালিকাভুক্ত প্রজাতির ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আছে। প্রকৃতি থেকে কাঠ, জ্বালানি, পশুখাদ্য, ঔষধি গাছ, বনজ নয় এমন বনপণ্য, পানি ও মাটি সংরক্ষণ এবং আয় পাওয়া যায়। এসব সম্পদে প্রবেশাধিকার একরকম নয়। প্রযোজ্য সংরক্ষিত-এলাকার বিধি, বন বা কমিউনিটি বনের পরিকল্পনা, পারমিট, মৌসুমি বিধিনিষেধ ও স্থানীয় ব্যবস্থাপনা ঠিক করে মানুষ কী সংগ্রহ বা ব্যবহার করতে পারে। বাফার জোনে স্থানীয় ভূমির অধিকার সুরক্ষিত থাকে; সম্পদে প্রবেশাধিকার ও সম্প্রদায় উন্নয়ন ব্যবহারকারী কমিটি ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার মাধ্যমে চলে। বিভাগের নির্দেশিকায় সংরক্ষিত এলাকার আয়ের 30% থেকে 50% সংরক্ষণ, স্থানীয় জীবিকা ও সম্প্রদায় উন্নয়নে সহায়তার কথা বলা হয়েছে। প্রযোজ্য বিধিতে যেখানে দরকার, সেখানে সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের পারমিট বা লিখিত অনুমতি নিতে হয়। প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া শিকার, বন্যপ্রাণী বা ট্রফি বাণিজ্য, গাছ বা কাঠ সংগ্রহ, পানি আটকানো বা দূষণ, নির্মাণ এবং ক্ষতিকর অন্যান্য কাজ নিষিদ্ধ। আইনগত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী সুরক্ষিত। বর্তমান ফি ও প্রবেশের ব্যবস্থা গন্তব্য অনুযায়ী নির্ধারিত। NTB-এর তালিকায় আনুমানিক প্রবেশ ফি নেপালি দর্শনার্থীদের জন্য NRs 100–150, সার্ক দর্শনার্থীদের জন্য NRs 500–1,500 এবং অন্য বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য NRs 1,000–3,000; ১০ বছরের কম বয়সী শিশু সাধারণত বিনামূল্যে প্রবেশ করে। কাঠমান্ডুর ভৃকুটিমণ্ডপের ট্যুরিস্ট সার্ভিস সেন্টার বা প্রবেশদ্বারে অর্থ দেওয়া যেতে পারে, তবে অনলাইন বা সরাসরি অর্থপ্রদান গ্রহণ হবে কি না তা গন্তব্যের বর্তমান ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। প্রকৃতিনির্ভর কার্যক্রমে বন্যপ্রাণী সাফারি, পাখি দেখা, জলাভূমি পর্যবেক্ষণ, হাইকিং, ট্রেকিং, পাহাড় দেখা, প্রকৃতিতে হাঁটা, ক্যাম্পিং ও গবেষণা ভ্রমণ রয়েছে। চিতওয়ান সাফারি ভূদৃশ্য এবং গণ্ডার, বাঘ ও ঘড়িয়ালের মতো প্রজাতির জন্য পরিচিত। সাগরমাথায় উচ্চ পর্বতের ভূদৃশ্য ও ট্রেকিং, অন্নপূর্ণায় সম্প্রদায় পরিচালিত ট্রেকিং ভূদৃশ্য, শিবপুরী-নাগার্জুনে কাঠমান্ডু অঞ্চলের হাইকিং ও পাখি দেখা, আর রারা ও ফোকসুন্ডোতে হ্রদ ও উচ্চ হিমালয়ের দৃশ্য মিলেছে। মূল উদ্দেশ্য সাধারণ অবসর হলে তা অন্য বিষয়ের আওতায় পড়ে; এখানে প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য, প্রজাতি বা বাস্তুতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই কেন্দ্রীয় হওয়া দরকার। হিমালয়ের অনেক পথে লাইসেন্সধারী ট্রেকিং গাইড এবং সংস্থার মাধ্যমে TIMS নিবন্ধন দরকার। TIMS ফি সার্ক দর্শনার্থীদের জন্য NRs 1,000 এবং অন্যদের জন্য NRs 2,000; সরকারি নিবন্ধিত ট্রেকিং সংস্থা QR ই-কার্ডের ব্যবস্থা করে। আলাদা ট্রেকিং বা পর্বতারোহণ পারমিটও লাগতে পারে। নির্দিষ্ট গন্তব্যের প্রবেশাধিকার ও মৌসুমি অবস্থা যাচাই করতে হবে। অক্টোবর–নভেম্বর এবং মার্চ–মে অনেক পর্বত অঞ্চলে তুলনামূলক অনুকূল; জুন–সেপ্টেম্বরের বর্ষা এবং ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারির তুষার ও ঠান্ডায় প্রবেশাধিকার ও নিরাপত্তা বদলাতে পারে। এই ধরন নেপালের সব জায়গায় একইভাবে প্রযোজ্য নয়। সংরক্ষিত এলাকা, উদ্ভিদ বা সরকারি গবেষণা-সুবিধা জড়িত থাকলে গবেষণা ও শিক্ষার জন্য আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা লাগে। বিভাগে গবেষণা-অনুমতির পদ্ধতি আছে। উদ্ভিদ সম্পদ বিভাগ গবেষণা-অনুমতি, হার্বেরিয়াম ও উদ্ভিদ বিশ্লেষণ এবং উদ্ভিদ উদ্যানের কাজ দেখে। বন গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বন জরিপ ও গবেষণা করে এবং প্রশিক্ষণ, মানচিত্র ও তথ্য দেয়। শিবপুরী পরিকল্পনার মতো ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বিদ্যালয় ভ্রমণ, প্রকৃতি দিবস-শিবির এবং পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য বা বন্যপ্রাণী অনুষ্ঠানে সহায়তা করতে পারে; তবে প্রাসঙ্গিক আবেদন, স্থান, প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তার শর্ত প্রযোজ্য। ভূদৃশ্যভেদে প্রাকৃতিক বিপদ আলাদা। বন্যা, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, ধ্বস, খরা, বজ্রপাত, তাপ ও শৈত্যপ্রবাহ, তুষারধস, শিলাবৃষ্টি, তুষার ও ঝড়ো হাওয়া, দাবানল, ভূমিকম্প এবং হিমবাহ-হ্রদ উপচে বন্যা নেপালকে প্রভাবিত করতে পারে। বর্ষা ও প্রবল বৃষ্টিতে তরাই, নদী উপত্যকা ও খাড়া ঢালে বিশেষ ঝুঁকি থাকে। হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ, পারমাফ্রস্ট, তুষারধস ও উচ্চতার আবহাওয়া-ঝুঁকি রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন এসব কয়েকটি ঝুঁকিতে অনিশ্চয়তা বাড়ায়। জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগ বন্যার পূর্বাভাস, আগাম সতর্কতা, আবহাওয়া সতর্কতা, বৃষ্টিপাত পর্যবেক্ষণ ও বন্যার তথ্য দেয়; টোল-ফ্রি নম্বর 1155। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ BIPAD সতর্কতা ও দৈনিক বুলেটিন দেয়; বাস্তবায়নের বড় দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের। সরিয়ে নেওয়া ও সাধারণ জরুরি ব্যবস্থাপনা মূলত দুর্যোগ-বিষয়ের আওতায় পড়ে; এখানে ভূদৃশ্য-সম্পর্কিত প্রাকৃতিক ঝুঁকি ও প্রতিরোধমূলক তথ্য মুখ্য। প্রকৃতি সংরক্ষণে ভূমি ও সম্পদ নিয়ে দ্বন্দ্বও জড়িত। সড়ক, বসতি, জলবিদ্যুৎ, পর্যটন ও সম্পদ আহরণ আবাসস্থল খণ্ডিত করতে পারে। পরিবার কাঠ, পশুখাদ্য, জ্বালানি ও বনজ নয় এমন বনপণ্যের জন্য বন ও কমিউনিটি বনের ওপর নির্ভর করতে পারে। মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্বে ফসল, গবাদিপশু বা সম্পত্তির ক্ষতি এবং আঘাত বা মৃত্যু হতে পারে। বন্যপ্রাণীর ক্ষতির ত্রাণ বিতরণ নির্দেশিকা ২০৮০ সরকারি ত্রাণের ভিত্তি দেয়; দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত এলাকা বা বিভাগীয় বন কাঠামোয় প্রতিবেদন ও দাবি জমা হয়, কর্তৃপক্ষ ক্ষতি মূল্যায়ন করে। NTNC-এর দ্রুত ত্রাণ সহায়তা বাড়াতে পারে, তবে সরকারি প্রক্রিয়ার বিকল্প নয়। স্থানীয় ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার সঙ্গে মিললে বাফার জোন ব্যবহারকারী কমিটি, আয় ভাগাভাগি, জীবিকা কর্মসূচি ও সহাবস্থান ব্যবস্থা দ্বন্দ্ব কমাতে পারে। বিষয় অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান আলাদা। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় জাতীয় নীতি নির্ধারণ করে; বিভাগ সংরক্ষিত এলাকার কাজ পরিচালনা করে; বন ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ বিভাগ বন প্রশাসন দেখে; পরিবেশ বিভাগ পরিবেশ-সংক্রান্ত কাজ করে; উদ্ভিদ সম্পদ বিভাগ উদ্ভিদ গবেষণা ও সংরক্ষণ দেখে; FRTC বন গবেষণা ও প্রশিক্ষণ দেয়; DHM আবহাওয়া ও বন্যার তথ্য দেয়; NDRRMA দুর্যোগ-ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সমন্বয় করে। প্রাদেশিক ও স্থানীয় সরকার, সংরক্ষিত এলাকার দপ্তর এবং বাফার জোন ব্যবহারকারী কমিটিও গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় কাজ করে। তাই নেপালের প্রাকৃতিক ব্যবস্থা মূল্যায়নে এক জাতীয় নিয়মের বদলে ভূদৃশ্য, সংরক্ষিত এলাকার শ্রেণি, পৌরসভা, ঋতু, পারমিটের অবস্থা ও নির্দিষ্ট কার্যক্রম বিবেচনা করুন।
নেপালে প্রকৃতি
নেপালের প্রকৃতির মধ্যে হিমালয়ী ভূদৃশ্য, বন, জলাভূমি, বন্যপ্রাণী, উদ্ভিদ এবং এগুলোকে গড়ে তোলা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া রয়েছে। দেশটি তরাই ও চুরিয়া থেকে মধ্য পর্বত, উচ্চ পর্বত ও উচ্চ হিমালয় পর্যন্ত বিস্তৃত; এখানে 118টি চিহ্নিত বাস্তুতন্ত্রের ধরন আছে। সংরক্ষিত এলাকা জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি পানি ও মাটি সংরক্ষণ, জীবিকা, গবেষণা ও প্রকৃতিনির্ভর কার্যক্রমে সহায়তা করে।
Tip
নেপালে প্রকৃতিনির্ভর কোনো কাজকে এক দেশব্যাপী চেকলিস্টের বদলে স্থান, অনুমতি ও ঋতুভিত্তিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখুন। প্রথমে ভূদৃশ্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ শনাক্ত করুন; তারপর নির্দিষ্ট গন্তব্যের পারমিট, ফি, প্রবেশ-শর্ত, আবহাওয়া সতর্কতা ও স্থানীয় বিধিনিষেধ নিশ্চিত করুন। সম্পদ ব্যবহার, গবেষণা ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতির দাবি প্রযোজ্য ব্যবস্থাপনা-পদ্ধতির মধ্যে রাখুন, কারণ সংরক্ষিত এলাকা, বন ও বাফার জোনে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য।

