মিয়ানমার প্রধানত গ্রামীণ দেশ; ২০২৩ সালে জনসংখ্যার প্রায় 69% গ্রামাঞ্চলে বাস করত। নগর বৃদ্ধি ও শহরতলির বসতি ঘনত্ব বাড়িয়েছে এবং নিকাশি, বর্জ্য সংগ্রহ ও পানির সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করেছে। ইয়াঙ্গুনে অসম প্রবেশাধিকারের স্পষ্ট উদাহরণ দেখা যায়: পুরোনো একটি ভিত্তিমাপে জনসংখ্যার প্রায় 33% পাইপের পানি পেত; অনানুষ্ঠানিক বসতিতে প্রায়ই পৌর পরিষেবা ছিল না। ইয়াঙ্গুন, মান্দালয়, Nay Pyi Taw, অন্যান্য শহর বা গ্রামাঞ্চলের অবস্থা পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করে ধরে নেওয়া যায় না। পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যবিধি পরিষেবা—সংক্ষেপে WASH—City Development Committee, মন্ত্রণালয়, সম্প্রদায় কমিটি এবং মানবিক বা উন্নয়ন সহযোগীদের মাধ্যমে দেওয়া হয়। প্রায় ৮৯ লাখ মানুষের জরুরি WASH পরিষেবা দরকার; 40%-এর বেশি পরিবারের নিরাপদভাবে পরিচালিত পানীয়জল নেই, প্রায় 40%-এর নিরাপদভাবে পরিচালিত পয়ঃনিষ্কাশন নেই এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মৌলিক স্বাস্থ্যবিধির সুবিধা নেই। শুষ্ক মৌসুমে পানির উৎস নষ্ট হওয়া ও বর্ষার বন্যায় পানি দূষিত হতে পারে। পুকুর, কূপ, ঝরনা ও বেসরকারি বিক্রেতা প্রচলিত বিকল্প; নগর বর্জ্যপানির ব্যবস্থা ঐতিহাসিকভাবে শুধু ইয়াঙ্গুন, Nay Pyi Taw ও মান্দালয়ে সীমিত ছিল এবং সম্পূর্ণভাবে চালু হয়নি। পানি সংগ্রহের স্থান, বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ট্যাংক, সৌরব্যবস্থা এবং গৃহস্থালি বা সম্প্রদায়ের পায়খানা জরুরি ব্যবস্থায় সহায়তা করে; তবে প্রাপ্যতা ও সামর্থ্য স্থানভেদে বদলে যায় এবং সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, রাস্তা ও মানবিক প্রবেশাধিকারে সীমিত হতে পারে। ২০২৩ সালে জনসংখ্যার 76.8% বিদ্যুৎ পেত বলে জানানো হয়েছিল; ২০২৫ সালের বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদনেও ৪০ লাখের বেশি পরিবারের বিদ্যুৎ না থাকার কথা বলা হয়। ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় ও Nay Pyi Taw-তে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত বা দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণের নেটওয়ার্কে বিতরণকৃত সৌরব্যবস্থা, ক্ষুদ্র গ্রিড ও জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। বহু শহরাঞ্চলে বর্জ্য সংগ্রহ আংশিক; খোলা স্থানে ফেলা বা দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রিত ভাগাড়ে নালা ও আশপাশের জমি দূষিত হতে পারে। পৌর ফি, পানির মাশুল, বর্জ্য ফি ও পার্কের ফি স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত; জাতীয় একক শুল্ক নেই। প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণ মন্ত্রণালয়ের অধীন Environmental Conservation Department পরিবেশের মান, পর্যবেক্ষণ ও প্রকল্প পর্যালোচনার দায়িত্বে। বড় প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব যাচাই করে Environmental Impact Assessment (EIA); তুলনামূলক সীমিত পর্যালোচনা দরকার এমন প্রকল্পে Initial Environmental Examination (IEE) ব্যবহার করা হয়। Environmental Compliance Certificate (ECC) প্রকল্পের পরিবেশগত অনুমোদন নথিভুক্ত করে। প্রয়োজনীয় সমীক্ষার অর্থ প্রকল্প উদ্যোক্তা দেন। EIA বা IEE-তে শব্দ, কম্পন, দূষণ, প্রশমন ও পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। পরামর্শে প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, কর্তৃপক্ষ, সম্প্রদায়ভিত্তিক সংস্থা ও নাগরিক সমাজ জাতীয়, আঞ্চলিক, রাজ্য, Nay Pyi Taw Union Territory ও স্থানীয় স্তরে অংশ নিতে পারে। মন্তব্য নকশা, প্রশমন ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় কাজে লাগানো উচিত; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত Environmental Conservation Department প্রকাশ করে। জমার পর সিদ্ধান্তের লক্ষ্য ৯০ দিন, তবে সময় বাড়ানো যেতে পারে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে শব্দদূষণ স্বীকৃত। প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ মূলত প্রকল্প উদ্যোক্তা ও পরিবেশ পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় সামলানো হয়; দৈনন্দিন উপদ্রবের ব্যবস্থাপনা খণ্ডিত। বাসিন্দাদের জন্য দেশব্যাপী পরিবেশগত শব্দ পর্যবেক্ষণ বা অভিযোগের ব্যবস্থা আছে—এমন প্রমাণ নেই। বায়ুদূষণ আসে কঠিন জ্বালানিতে রান্না, যানবাহন, শিল্প, বর্জ্য পোড়ানো ও মৌসুমি ধোঁয়াশা থেকে। WHO-র একটি মডেলভিত্তিক হিসাব ২০১৯ সালে শহরাঞ্চলে বার্ষিক গড় PM2.5 ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে 26.79 মাইক্রোগ্রাম বলেছে; তবে পর্যবেক্ষণ সীমিত। ইয়াঙ্গুনের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে নির্বাচিত স্থানে PM2.5, PM10, sulfur dioxide, nitrogen dioxide, ozone ও carbon monoxide পরীক্ষা করা হয়েছে; দেশজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক নেই। তাই শহরে, শুষ্ক মৌসুমে এবং কঠিন জ্বালানি ব্যবহার করা বাড়িতে স্থানীয় পর্যবেক্ষণ ও স্বাস্থ্য পরামর্শ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। City Development Committee-র পার্ক, বাগান, খেলার মাঠ ও বিনোদনকেন্দ্রের দায়িত্ব রয়েছে; তবে প্রবেশাধিকার, রক্ষণাবেক্ষণ ও ফি শহর ও স্থানভেদে বদলে যায়। জনসাধারণের সবুজ স্থানের পরিমাণ বা প্রবেশাধিকার নিয়ে দেশব্যাপী মানদণ্ড আছে—এমন প্রমাণ নেই। সম্প্রদায় পরিচালিত খোলা স্থান, মন্দিরের প্রাঙ্গণ ও স্থানীয় সবুজ এলাকা ব্যবহারিক বিকল্প হতে পারে। ছায়া, বিনোদন ও বন্যার পানি কিছুটা ধরে রাখার মতো দৈনন্দিন উপকার আছে; সংরক্ষিত বাস্তুতন্ত্র ও বন পৃথক Nature বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। নিরাপত্তা নির্ভর করে ভৌত পরিবেশ ও বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি—দুইয়ের ওপর। বড় স্থানিক ঝুঁকির মধ্যে ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, প্রচণ্ড গরম, অনিরাপদ ভবন ও ইউটিলিটি, আগুন, দূষিত পানি এবং বিস্ফোরক অস্ত্রের অবশিষ্টাংশ রয়েছে। ২৮ মার্চ ২০২৫-এর ভূমিকম্পে ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়; প্রায় ৯০ লাখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরাসরি ভৌত ক্ষতি আনুমানিক US$10.97 billion—জিডিপির প্রায় 14%—ছিল। ২০২৫ সালে বিস্ফোরক অস্ত্রের অবশিষ্টাংশ-সংক্রান্ত 510টি ঘটনা নথিবদ্ধ হয়; এতে 155 শিশুসহ 745 জন বেসামরিক হতাহত হয়। Shan State-এ 182টি ঘটনা ও 245 জন হতাহত হয়। আবহাওয়া ও বিপদ পর্যবেক্ষণে Department of Meteorology and Hydrology এবং প্রস্তুতি, সাড়া ও পুনরুদ্ধারে Department of Disaster Management সহায়তা করে। বাস্তব সুরক্ষায় সম্প্রদায়ের সতর্কবার্তা, সরিয়ে নেওয়া, বিস্ফোরক অস্ত্রের ঝুঁকি-শিক্ষা, মানবিক আশ্রয় ও WASH সহায়তাও ভূমিকা রাখে। আনুষ্ঠানিক দেশব্যাপী মাইন অপসারণ কার্যক্রম আছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নগরায়ণ, শহরতলির বিস্তার, বাস্তুচ্যুতি, সংঘাত, বিদ্যুৎ ও পানির বিঘ্ন, জলবায়ুর চরম অবস্থা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে দৈনন্দিন বসবাসের পরিবেশ বদলাচ্ছে। UNHCR ২০২৬ সালে মিয়ানমারে প্রায় ৩৭ লাখ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের কথা জানায়। ২০২৫ সালের ভূমিকম্প-পরবর্তী পুনরুদ্ধার মধ্যাঞ্চলীয় করিডরে কেন্দ্রীভূত; অর্থায়ন, নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতায় রাস্তা, পানির স্থান, পয়ঃনিষ্কাশন, ধ্বংসাবশেষ সরানো ও জনপরিকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সম্প্রদায়-নেতৃত্বাধীন কাজ বাধাগ্রস্ত। সমন্বিত বাসিন্দা-উপযোগী পরিবেশ পোর্টাল বা একরূপ পরিষেবার মানের দেশব্যাপী সরাসরি সমতুল্য নেই। ব্যবহারিক প্রবেশাধিকার তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত শহর বা টাউনশিপ সংস্থা, স্থানীয় প্রদানকারী, সম্প্রদায় সংগঠন এবং প্রয়োজনে মানবিক সহযোগীদের ওপর নির্ভর করে।
মিয়ানমারে বসবাসের পরিবেশ
মিয়ানমারে দৈনন্দিন বসবাসের পরিবেশ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, বর্জ্য পরিষেবা, নিকাশি, সবুজ স্থান, বায়ুর মান ও বিপদ থেকে সুরক্ষার ওপর নির্ভর করে। শহর, গ্রামাঞ্চল, রাজ্য ও অঞ্চল, টাউনশিপ, বাস্তুচ্যুত মানুষের বসতি এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পরিষেবা ব্যাপকভাবে ভিন্ন; বাসিন্দাদের জন্য একক দেশব্যাপী পরিষেবা বা মানদণ্ড নেই। City Development Committee-গুলো অনেক পৌর পরিষেবা পরিচালনা করে; Environmental Conservation Department ও প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণ মন্ত্রণালয় পরিবেশ পরিচালনা ও প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে। ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, তাপ, অনিরাপদ ভবন, আগুন, দূষিত পানি ও বিস্ফোরক অস্ত্রের অবশিষ্টাংশ দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও চলাচল বদলে দিতে পারে।
Tip
মিয়ানমারে বসবাসের পরিবেশকে একরূপ জাতীয় প্যাকেজ নয়, নির্দিষ্ট এলাকার পরিষেবা ও ঝুঁকির সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখুন। প্রথমে নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, বিদ্যুতের ধারাবাহিকতা ও বিপদের তথ্য নিশ্চিত করুন; এরপর পৌর, সম্প্রদায়, বেসরকারি বা মানবিক বিকল্পের খরচ ও নির্ভরযোগ্যতার সঙ্গে বর্জ্য, নিকাশি, বায়ু, শব্দ ও সবুজ স্থানের অবস্থা তুলনা করুন। কোনো প্রকল্প এলাকায় পরিবর্তন আনতে পারে হলে EIA বা IEE পরামর্শ প্রক্রিয়ায় অংশ নিন এবং প্রভাব, অঙ্গীকার ও অমীমাংসিত ঝুঁকির লিখিত প্রমাণ রাখুন।

