মিয়ানমারে প্রকৃতির প্রতিটি অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন একক প্রতিষ্ঠান বা শ্রেণিবিভাগ নেই। আনুষ্ঠানিক সংরক্ষিত এলাকা, সম্প্রদায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা, পর্যটনসেবা ও স্থানীয় চর্চা প্রতিষ্ঠিত হলেও কিছুটা খণ্ডিত ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। প্রধান ভূদৃশ্যের মধ্যে রয়েছে হিমালয় ও কাচিনের উচ্চভূমি, চিন ও রাখাইন ইয়োমা, মধ্য শুষ্ক অঞ্চল, আয়েয়ারওয়াদি বদ্বীপ, ইনলে ও ইন্দাওগি এবং তানিনথারি ও মিয়েক দ্বীপপুঞ্জ। এসব এলাকায় বন, পাহাড়, শুষ্ক ও উপ-আর্দ্র ভূমি, মোহনার ম্যানগ্রোভ, অভ্যন্তরীণ মিঠাপানি, তৃণভূমি, সামুদ্রিক ও উপকূলীয় আবাসস্থল এবং ছোট দ্বীপ রয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণ মন্ত্রণালয়, প্রধানত বন বিভাগ ও তার Nature and Wildlife Conservation Division-এর মাধ্যমে, আনুষ্ঠানিক সংরক্ষণব্যবস্থার বড় অংশ পরিচালনা করে। ২০১৮ সালের Conservation of Biodiversity and Protected Areas Law-এ Scientific Reserve, National Park, Marine National Park, Nature Reserve, Wildlife Sanctuary, Geologically Significant Area ও Community Conservation Area-সহ বিভিন্ন শ্রেণি রয়েছে। বন বিভাগের একটি ভিত্তিমূলক তালিকায় 45টি প্রতিষ্ঠিত সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে, যা মিয়ানমারের প্রায় 5.85% জুড়ে। এতে আটটি ASEAN Heritage Park, United Nations Educational, Scientific and Cultural Organization-এর Man and the Biosphere কর্মসূচিসংযুক্ত দুটি স্থান এবং Ramsar Convention-এর অধীনে স্বীকৃত জলাভূমি—সাতটি Ramsar Site—প্রায় 278,913 হেক্টরজুড়ে থাকার কথাও নথিভুক্ত। উদাহরণের মধ্যে রয়েছে Hkakaborazi, Hponkanrazi, Alaungdaw Kathapa, Natmataung, Popa Mountain, Lampi, Meinmahla Kyun, Inle, Indawgyi, Moeyungyi, Chatthin ও Shwesettaw। আগের একটি জাতীয় ভিত্তিমূলক তথ্যসেটে 11,824টি উদ্ভিদ প্রজাতি, 252টি স্তন্যপায়ী ও 1,056টি পাখির কথা ছিল; এগুলো পুরোনো তথ্য, বর্তমান জাতীয় গণনা নয়। বিশেষ সুরক্ষা দরকার এমন প্রজাতির মধ্যে রয়েছে বাঘ, এশীয় হাতি, বান্তেং, Eld's deer, মিয়ানমার স্টার কচ্ছপ, ইরাবতী ডলফিন, কুমির, সামুদ্রিক কচ্ছপ, পরিযায়ী জলচর পাখি ও অর্কিড। সংরক্ষিত এলাকার বিধি তার শ্রেণি, প্রযোজ্য আইন ও স্থানীয় নিয়মের ওপর নির্ভর করে। শিকার, বন্যপ্রাণী ধরা বা বেচাকেনা, প্রাকৃতিক সম্পদ সরানো, আবাসস্থল নষ্ট করা এবং অননুমোদিত উন্নয়ন নিষিদ্ধ হতে পারে বা অনুমতি লাগতে পারে। সংরক্ষিত এলাকার নাম থাকলেই মাছ ধরা, জ্বালানি কাঠ বা অ-কাঠ বনজ সম্পদ সংগ্রহ, কাঠামো নির্মাণ বা চাষের সাধারণ অনুমতি মেলে না। বন ব্যবহার Myanmar Selection System অনুসরণ করতে পারে, যা নির্বাচিত গাছ কাটার বন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। সম্প্রদায়ভিত্তিক বনায়নে বন বিভাগ Forest User Group-কে নির্দিষ্ট বনসম্পদ পরিচালনার অনুমোদন দেয়; সনদের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩০ বছর হতে পারে এবং ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ও ন্যায্য সুবিধা বণ্টন ব্যবস্থার অংশ হওয়ার কথা। দূরবর্তী জাতিগোষ্ঠী-অধ্যুষিত অঞ্চলে বাস্তবায়ন এবং বন বিভাগের এখতিয়ার অসম হতে পারে। প্রকৃতিনির্ভর জীবিকার মধ্যে রয়েছে কাঠ, খাদ্য, ওষুধ ও কারুশিল্পের উপকরণসহ অ-কাঠ বনজ সম্পদ, জ্বালানি কাঠ, অভ্যন্তরীণ ও সামুদ্রিক মাছ ধরা, ম্যানগ্রোভ ব্যবহার এবং সংরক্ষিত এলাকার সীমানার কাছে কৃষিকাজ। চাপের মধ্যে অবৈধ শিকার ও বন্যপ্রাণী বাণিজ্য, বন হ্রাস, অতিরিক্ত মাছ ধরা, অনুপ্রবেশ, আগুন, আবাসস্থলের রূপান্তর, খনি, অনিয়ন্ত্রিত সংগ্রহ, আগ্রাসী প্রজাতি ও জলবায়ু পরিবর্তন রয়েছে। পর্যটন বর্জ্য, প্রজনন বা মূল আবাসস্থলের কাছে বিরক্তি, জমি ও দামের সংঘাত এবং সাংস্কৃতিক টানাপোড়েন বাড়াতে পারে। বন ও সংরক্ষিত এলাকার কাছে থাকা সম্প্রদায় মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাতেও পড়ে। কাজকর্মের মধ্যে রয়েছে হাইকিং, পাখি দেখা, অর্কিড ও প্রকৃতির ব্যাখ্যামূলক ভ্রমণ, ক্যানো চালানো, মোটরবোটে ভ্রমণ, সাইকেল চালানো, গুহা দেখা, স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং এবং কচ্ছপ বা কুমির পর্যবেক্ষণ। সম্প্রদায়ভিত্তিক পর্যটন বা CBT-তে দর্শনার্থীসেবার সঙ্গে সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ যুক্ত থাকে; এতে গ্রামে থাকার ব্যবস্থা ও স্থানীয় গাইড থাকতে পারে, যেমন ইন্দাওগির আশপাশে। হোটেল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কয়েকটি ইকোট্যুরিজম স্থান তালিকাভুক্ত করেছে, তবে তালিকাভুক্ত হলেই প্রবেশ খোলা থাকে না। স্থান অনুযায়ী অনুমতি বন বিভাগের অফিস বা ওয়ার্ডেন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, সেবাদাতা বা গাইড দিতে পারেন। মিয়ানমারের সব স্থানের জন্য একরূপ প্রবেশ বা অনুমতি ফি নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশিত নেই; তাই বর্তমান খরচ, খোলার শর্ত, পরিবহন, নিরাপত্তা ও মৌসুমি বন্ধ স্থানীয়ভাবে যাচাই করতে হবে। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনেক স্থলভাগ ও পাহাড়ি গন্তব্য ভ্রমণের জন্য তুলনামূলক উপযোগী। উপকূল ও বদ্বীপের অবস্থা বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড়ের ওপর বেশি নির্ভর করে। Department of Meteorology and Hydrology প্রবল মৌসুমি বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, নদী ও উপকূলীয় প্লাবন, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, উত্তাল সমুদ্র, খরা ও দাবানলের সতর্কতা দেয়। বন বিভাগের তথ্য, Forest Research Institute, Chatthin Natural History Museum, হোটেল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যামূলক তথ্য, বিশ্ববিদ্যালয়, সংরক্ষণ সংগঠন ও স্থানীয় সম্প্রদায় পরিপূরক জ্ঞান দেয়। জাতীয় কৌশলে গাইড লাইসেন্স ও দর্শনার্থী-বন্যপ্রাণী নির্দেশিকার প্রস্তাব রয়েছে, তবে সব স্থানে বাস্তবায়ন নিশ্চিত নয়। মিয়ানমারের প্রকৃতির সব স্থানের জন্য একক দেশব্যাপী দর্শনার্থী, অভিযোগ বা ফি অফিসও নেই।
মিয়ানমারে প্রকৃতি
মিয়ানমারের প্রকৃতির মধ্যে রয়েছে বন, পাহাড়, শুষ্ক ও উপ-আর্দ্র ভূমি, ম্যানগ্রোভ, নদী ও হ্রদ, তৃণভূমি, উপকূল ও ছোট দ্বীপ। ২০১৮ সালের Conservation of Biodiversity and Protected Areas Law-এর অধীনে জাতীয় উদ্যান, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা, সামুদ্রিক জাতীয় উদ্যান ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সংরক্ষণ এলাকা দিয়ে এসব বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করা হয়। কৃষি, মাছ ধরা, বন ব্যবহার ও পর্যটন এদের ওপর নির্ভর করে, তবে আবাসস্থল হারানো, অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্য, আগুন ও মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাতও ঘটাতে পারে। স্থানভেদে প্রবেশ, ফি, অনুমতি, নিরাপত্তা ও মৌসুমি অবস্থা বদলে যায়, তাই মিয়ানমারে দর্শনার্থীদের জন্য একক জাতীয় নিয়ম নেই।
Tip
মিয়ানমারে প্রকৃতিতে ভ্রমণ বা সম্পদ ব্যবহারের প্রতিটি পরিকল্পনাকে নির্দিষ্ট স্থানভিত্তিক হিসেবে দেখুন। সময় বা অর্থ ব্যয়ের আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় যোগাযোগের কাছ থেকে প্রবেশ, অনুমতি, খরচ, নিরাপত্তা ও মৌসুমি অবস্থা নিশ্চিত করুন। উদ্দেশ্যের উপযোগী সবচেয়ে কম ক্ষতিকর বিকল্প বেছে নিন এবং সতর্কতা, নিরাপত্তার তথ্য বা স্থানীয় নিয়ম অস্পষ্ট থাকলে পরিকল্পনা স্থগিত বা বদলান।

