বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক, সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র এবং এর সরকারব্যবস্থা সংসদীয়। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান, আর প্রধানমন্ত্রী সরকারের নেতৃত্ব দেন। এককক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad), বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ, আইন গ্রহণ করে, কর অনুমোদন করে এবং জাতীয় বাজেট পাস করে। জনপ্রশাসন, স্থানীয় স্বশাসন, আদালত, সরকারি অর্থব্যবস্থা, তদারকি সংস্থা এবং নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রের বিভিন্ন কার্য সম্পাদন করে। নির্বাচন নির্ধারণ করে কারা নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব পাবে। যোগ্য ভোটাররা জাতীয় সংসদ এবং স্থানীয় পরিষদের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। নির্বাচন কমিশন (Election Commission) ভোটার তালিকা, নির্বাচনী এলাকা, ভোটগ্রহণ, গণনা এবং সরকারি ফলাফল পরিচালনা করে। বাংলাদেশ ভৌগোলিক নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি 300 জন সংসদ সদস্য নির্বাচন করে। সংসদ সদস্যরা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে 50 জনকে নির্বাচন করেন। সরকার ও নির্বাচনকে আলাদা করে দেখা রাজনৈতিক কর্তৃত্ব কীভাবে কাজ করে তা বোঝাতে সাহায্য করে। সরকারি প্রতিষ্ঠান জনসাধারণ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে, আর নির্বাচন প্রতিনিধিত্বমূলক ম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠা বা নবায়ন করে। জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় পরিষদ ভিন্ন ভৌগোলিক ও শাসনস্তরে কাজ করে; তাই সংসদীয় নির্বাচন স্থানীয় নির্বাচন বা স্থানীয় স্বশাসনের বিকল্প নয়।
বাংলাদেশের রাজনীতি
বাংলাদেশে রাজনীতি কীভাবে জনক্ষমতা সংগঠিত, প্রয়োগ এবং তা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা হয়, সে বিষয়টি নিয়ে। এর মধ্যে রাষ্ট্রের কার্যাবলি সম্পাদনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য অনুষ্ঠিত নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত। ক্ষেত্র দুটি পরস্পরসম্পর্কিত হলেও পৃথক: সরকার জনসাধারণের কর্তৃত্ব কার্যকর করে, আর নির্বাচন জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত ম্যান্ডেট প্রদান করে।
Tip
বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক প্রশ্নকে সঠিক স্তর ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে এই কাঠামো ব্যবহার করুন। জাতীয় আইন প্রণয়ন ও সরকারি পদক্ষেপকে স্থানীয় স্বশাসন এবং প্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়া থেকে আলাদা করুন। নির্বাচন-সংক্রান্ত দাবির ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া বা সরকারি ফলাফল যাচাই করুন।

