জন্ম, বিয়ে, সিভিল পার্টনারশিপ, দত্তক গ্রহণ, পালক-যত্ন অথবা দীর্ঘস্থায়ী ব্যক্তিগত অঙ্গীকারের ভিত্তিতে পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একই ঠিকানায় বসবাসকারী মানুষদের নিয়ে গৃহস্থালি গঠিত হয়; এটি পরিবারের থেকে আলাদা ধারণা। যুক্তরাজ্যে পরিবারের ধরন অনেক রকম। কেউ একা, সঙ্গীর সঙ্গে, সন্তানদের সঙ্গে, মিশ্র পরিবারে, বিস্তৃত আত্মীয়গোষ্ঠীর সঙ্গে অথবা অন্য কোনো যত্নশীল ব্যবস্থায় থাকতে পারেন। পরিবারের প্রচলিত সম্পর্কবাচক শব্দের মধ্যে রয়েছে মা-বাবা, সন্তান, ভাইবোন, দাদা-দাদি বা নানা-নানি, কাকা-কাকি বা মামা-মামী, চাচাতো-মামাতো ভাইবোন, সৎ-মা বা সৎ-বাবা এবং শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়। বিশেষত মিশ্র, দত্তক, পালক ও পছন্দ করে গড়া পরিবারে মানুষ এসব শব্দ ভিন্নভাবে ব্যবহার করতে পারেন। কিছু আত্মীয় একে অপরকে ঘন ঘন দেখেন, আবার কেউ দূরে থাকেন বা তাঁদের যোগাযোগ সীমিত। ফোন, দলীয় বার্তা, দেখা-সাক্ষাৎ, উদ্যাপন এবং ব্যবহারিক সহায়তা প্রায়ই পারিবারিক সম্পর্ক সক্রিয় রাখে। যত্নের দায়িত্ব বিভিন্ন দিকে যেতে পারে। প্রাপ্তবয়স্করা শিশুদের যত্ন নিতে পারেন, আত্মীয়রা প্রতিবন্ধী পরিবারের সদস্যকে সহায়তা করতে পারেন, আর কমবয়সীরা মা-বাবা বা দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানিকে সাহায্য করতে পারেন। পরিবারের সিদ্ধান্তে প্রায়ই অর্থ, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উদ্যাপন এবং যত্নের বিষয় থাকে। বয়স, সংস্কৃতি, ধর্ম ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে প্রত্যাশা ভিন্ন হতে পারে বলে খোলামেলা আলোচনা কাজে আসে। পরিবার পরিচয়ের অনুভূতি, স্নেহ, নিরাপত্তা, পরামর্শ ও জরুরি সহায়তা দিতে পারে। আবার পরিবারে দ্বন্দ্ব, চাপ, কাজের অসম বণ্টন বা কঠিন সীমারেখাও থাকতে পারে। আত্মীয়তার সম্পর্ক কারও গোপনীয়তা, সম্মতি ও নিরাপত্তার অধিকার কেড়ে নেয় না। পরিবারের আচরণ নিয়ন্ত্রণমূলক, নির্যাতনমূলক বা বিপজ্জনক হয়ে উঠলে কেউ বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা পেশাদার সহায়তা নিতে পারেন।
যুক্তরাজ্যে পরিবার
যুক্তরাজ্যে পরিবার বলতে আত্মীয়স্বজন, একই বাড়িতে থাকা মানুষ, অথবা যারা একে অপরের যত্ন নেন ও আপনজনের মতো সম্পর্ক গড়ে তোলেন—তাঁদের বোঝাতে পারে। পরিবারে একজন বা দুজন অভিভাবক, সন্তান, সৎ-আত্মীয়, দত্তক নেওয়া আত্মীয়, পালক পরিবার, বিস্তৃত আত্মীয়গোষ্ঠী, অথবা সন্তানহীন দম্পতি থাকতে পারেন। দেশের সবার প্রতিনিধিত্ব করে—এমন একটিমাত্র পারিবারিক ধরন নেই।
Tip
কে পরিবারের অংশ বা কে কোন ভূমিকা পালন করেন, তা ধরে না নিয়ে প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের পরিবারকে কীভাবে বর্ণনা করেন তা জানুন। মতবিরোধ তৈরি হওয়ার আগেই যত্ন, দেখা-সাক্ষাৎ, অর্থ ও উদ্যাপন নিয়ে কথা বলুন। পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি তথ্য গুছিয়ে এমনভাবে রাখুন, যাতে প্রয়োজনের সময় পাওয়া যায়।

