পাকিস্তানে নদী ও শহরাঞ্চলের বন্যা, আকস্মিক বন্যা, ভূমিকম্প, ভূমিধস, খরা, তাপপ্রবাহ, তীব্র ঝড় এবং পাহাড়ি এলাকায় তুষারধসসহ নানা দুর্যোগ ঘটে। কিছু বিপদ মৌসুমি, আবার ভূমিকম্প ও আকস্মিক ভূমিধস সামান্য বা কোনো পূর্বসতর্কতা ছাড়াই ঘটতে পারে। বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধস হতে পারে, বিশেষ করে নদী, পানি নিষ্কাশন নালা, নিচু বসতি এবং পাহাড়ি সড়কের কাছে। খরা ও তাপ পানির সরবরাহ, ফসল, গবাদিপশু, স্বাস্থ্য এবং বিদ্যুতের ব্যবহারে প্রভাব ফেলতে পারে। উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও প্রবল বাতাসের ঝুঁকিও থাকে। পাকিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা একাধিক স্তরে কাজ করে। জাতীয় সমন্বয়ে সহায়তা করে National Disaster Management Authority (জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ—NDMA); আর Provincial Disaster Management Authorities (প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ—PDMAs) প্রদেশের ভেতরের কাজের বড় অংশ সমন্বয় করে। জেলা প্রশাসন, উদ্ধারকর্মী, পুলিশ, স্বাস্থ্যসেবা, স্থানীয় সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবীরা অনেক প্রাথমিক সাড়া পরিচালনা করেন। সরকারি ঘোষণা, আবহাওয়ার তথ্য, স্থানীয় প্রশাসন, রেডিও, টেলিভিশন, মোবাইল বার্তা বা সম্প্রদায়ের যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সতর্কবার্তা আসতে পারে। সতর্কবার্তা সাধারণ হতে পারে, তাই মানুষকে স্থানীয় পরিস্থিতিও লক্ষ করতে হবে—যেমন পানি বাড়া, ঢালে ফাটল, নদীর অস্বাভাবিক শব্দ, ধোঁয়া, প্রচণ্ড তাপ বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবন। সাধারণত সতর্কবার্তা ও প্রস্তুতির পর বিপদ বাড়লে আশ্রয় নেওয়া বা স্থানত্যাগের ধাপ আসে। উদ্ধারকারী দল মানুষকে খুঁজে বের করতে, প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে, পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে নিতে এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র চালু করতে পারে। ত্রাণে পানি, খাবার, পয়ঃনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা, চিকিৎসা, পোশাক এবং বাড়িঘর ও জীবিকা পুনরুদ্ধারের সহায়তা থাকতে পারে। পরিবারের উচিত বাড়ি থেকে বের হওয়ার দুটি পথ, কাছের একটি নিরাপদ ভবন বা উঁচু স্থান এবং এলাকার বাইরে যোগাযোগের জন্য একজন ব্যক্তিকে ঠিক করে রাখা। জরুরি ব্যাগে পানীয় জল, সহজে খাওয়া যায় এমন খাবার, ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, গুরুত্বপূর্ণ নথির কপি, টর্চ, ব্যাটারি, ফোন চার্জ করার সরঞ্জাম এবং শিশু বা বয়স্কদের প্রয়োজনীয় জিনিস রাখা যেতে পারে। বন্যার সময় চলমান পানির মধ্যে হাঁটা বা গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। ক্ষতিগ্রস্ত সেতু, খোলা নালা ও ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তার থেকে দূরে থাকুন। ভূমিকম্পের সময় নিচু হন, আড়াল নিন এবং ধরে থাকুন; ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিরাপদ হলে সতর্কভাবে বাইরে যান। প্রচণ্ড গরমে নিরাপদ পানি পান করুন, কঠিন শারীরিক কাজ কমান এবং শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের খোঁজ নিন। দুর্যোগ ত্রাণ জীবন বাঁচাতে পারে, তবে সড়ক, ফোন নেটওয়ার্ক, হাসপাতাল বা বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে সহায়তা আসতে দেরি হতে পারে। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ভিড় হতে পারে, ব্যক্তিগত নথি হারিয়ে যেতে পারে এবং সহায়তা প্রতিটি পরিবারের সব চাহিদা মেটাতে নাও পারে। আনুষ্ঠানিক সেবা থাকলেও স্থানীয় জ্ঞান, পারস্পরিক সহায়তা ও প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। তাৎক্ষণিক বিপদ কেটে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত ভবন নিরাপদ বলে বিবেচিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে ফিরবেন না। নিখোঁজ ব্যক্তি, বিপজ্জনক ভবন, বন্ধ সড়ক বা নষ্ট পরিষেবার কথা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা উদ্ধারকর্মীদের জানান। ক্ষয়ক্ষতির নথি রাখুন এবং পানি, খাবার, বর্জ্য ও রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলুন।
পাকিস্তানে দুর্যোগ
পাকিস্তানে বন্যা, ভূমিকম্প, ভূমিধস, খরা, তাপপ্রবাহ, ঝড় এবং অন্যান্য দুর্যোগ ঘটে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ও প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জেলা কর্মকর্তা, উদ্ধারকর্মী, সম্প্রদায় এবং মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো কাজ করে। সতর্কবার্তা, নিরাপদ স্থান, সরিয়ে নেওয়ার ধাপ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী সম্পর্কে জানা থাকলে পরিবারগুলো আরও নিরাপদে সাড়া দিতে পারে।
Tip
পাকিস্তানে আপনার পরিবারের জন্য সব দুর্যোগের বদলে নিজের জেলায় সবচেয়ে সম্ভাব্য বিপদগুলোর প্রস্তুতি নিন। ছোট জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখুন, গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করুন এবং সংকটের আগেই মিলিত হওয়ার জায়গা ঠিক করুন। পরিস্থিতি এখনও সামাল দেওয়া যাচ্ছে বলে মনে হলেও স্থানত্যাগের নির্দেশ ও দৃশ্যমান বিপদের লক্ষণ গুরুত্বের সঙ্গে নিন।

