পাকিস্তানের অঞ্চল, ভাষা, ইতিহাস ও সম্প্রদায় বৈচিত্র্যময় বলে এখানে অনেক শিল্প-ঐতিহ্য রয়েছে। পাঞ্জাবি, সিন্ধি, পশতুন, বালুচ, কাশ্মিরি, গিলগিত-বালতিস্তানি এবং অন্যান্য স্থানীয় শৈলীতে আলাদা রং, উপকরণ, প্রতীক ও গল্প দেখা যেতে পারে। ইসলামী দৃশ্যসংস্কৃতিতে ক্যালিগ্রাফির গুরুত্ব রয়েছে। আরবি ও ফারসি হরফের নকশা মসজিদ, বাড়ি, বই, সাইনবোর্ড, সিরামিক ও চিত্রকলায় ব্যবহার হতে পারে। ক্যালিগ্রাফি ধর্মীয়, শিক্ষামূলক, অলংকারমূলক বা একান্ত ব্যক্তিগত হতে পারে। ক্ষুদ্রচিত্রের বিকাশ ঘটেছে প্রাচীন দরবারি ও পাণ্ডুলিপির ঐতিহ্য থেকে; পরে এটি আধুনিক শিল্পরূপেও পরিণত হয়েছে। শিল্পীরা সূক্ষ্ম বিস্তারিত কাজের সঙ্গে ইতিহাস, কবিতা, রাজনীতি, প্রকৃতি বা দৈনন্দিন জীবনের বিষয় মিলিয়ে নিতে পারেন। আধুনিক ক্ষুদ্রচিত্রে অতীতের অনুকরণ করা বাধ্যতামূলক নয়। ট্রাকশিল্প পাকিস্তানের সবচেয়ে দৃশ্যমান অলংকারশিল্পগুলোর একটি। ট্রাক ও বাসে উজ্জ্বল রং, ফুল, পাখি, প্রাকৃতিক দৃশ্য, প্রতিকৃতি, কবিতা এবং সুরক্ষা বা আশার প্রতীক আঁকা থাকতে পারে। একই ধরনের দৃশ্যভাবনা রিকশা, দোকান, আসবাব ও ঘরের জিনিসেও দেখা যায়। বস্ত্রশিল্পে বয়ন, সূচিকর্ম, ছাপা নকশা, আয়নার কাজ, শাল, কার্পেট ও সাজানো পোশাক রয়েছে। নকশায় প্রায়ই স্থানীয় পরিচয় ফুটে ওঠে এবং তা পরিবারে শেখানো বা বিশেষজ্ঞ কারুশিল্পীদের মাধ্যমে তৈরি হতে পারে। এ কাজ সৌন্দর্য, আয়, মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক স্মৃতি বহন করতে পারে। মৃৎশিল্প, কাঠের কাজ, ধাতুশিল্প, পাথরের কাজ, গয়না ও টালির কাজ শিল্পকে ব্যবহার্য বস্তুর সঙ্গে যুক্ত করে। একটি বাটি, দরজা, চুড়ি বা মেঝের নকশা একই সঙ্গে ব্যবহারিক ও শৈল্পিক হতে পারে। স্থানীয় উপকরণ ও জলবায়ু এসব কারুশিল্পকে প্রভাবিত করে। স্থাপত্য ও বাগানেও শিল্পভাবনা প্রকাশ পায়। মসজিদ, মাজার, দুর্গ, বাড়ি, বাজার ও আধুনিক ভবনে স্থান, আলো, নকশা, টালি, ইট, কাঠ ও ক্যালিগ্রাফি নানা ভাবে ব্যবহৃত হয়। পবিত্র স্থানের সাজসজ্জায় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিয়মের প্রভাব থাকে। পাকিস্তানের সমকালীন শিল্পীরা চিত্রকলা, আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র, ভাস্কর্য, ডিজিটাল মাধ্যম, নকশা, নাটক, সংগীত ও স্থাপনাশিল্পে কাজ করেন। শিল্প পরিচয় উদ্যাপন করতে, ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে, ইতিহাস মনে রাখতে বা সাধারণ জীবন দেখাতে পারে। প্রশিক্ষণ, গ্যালারি, অর্থায়ন ও নিরাপদ জনপরিসরে প্রবেশের সুযোগ এখনও অসম।
পাকিস্তানে শিল্পকলা
পাকিস্তানের শিল্পকলায় চিত্রকলা, ক্যালিগ্রাফি, স্থাপত্য, বস্ত্রশিল্প, মৃৎশিল্প, গয়না, পরিবেশনা এবং দৈনন্দিন সাজসজ্জা অন্তর্ভুক্ত। পাকিস্তানি শিল্পী ও কারুশিল্পীরা আঞ্চলিক ঐতিহ্য, ইসলামী নকশা, দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস, প্রকৃতি, কবিতা ও আধুনিক জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নেন। শিল্পকলা গ্যালারি ও জাদুঘরে যেমন দেখা যায়, তেমনি ট্রাক, পোশাক, ভবন, ব্যবহার্য বস্তু ও জনপরিসরেও দেখা যায়।
Tip
পাকিস্তানি শিল্পের খোঁজ দৈনন্দিন স্থানেও করুন, কারণ শিল্পকর্ম শুধু গ্যালারিতে সীমাবদ্ধ নয়। কোনো বস্তু বা ছবির উপকরণ, নকশা, নির্মাতা, উদ্দেশ্য এবং আঞ্চলিক গল্প লক্ষ করুন। দক্ষ নির্মাতাদের সহায়তা ও তাদের কাজের যত্ন সাংস্কৃতিক জ্ঞান টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

