নেপালের সংবিধানে মাতৃভাষার জন্য मातृभाषा এবং জাতীয় ভাষার জন্য राष्ट्रभाषा শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৬ অনুযায়ী নেপালে প্রচলিত সব ভাষারই জাতীয় ভাষার মর্যাদা রয়েছে। অনুচ্ছেদ ৭ দেবনাগরী লিপিতে লেখা নেপালিকে ফেডারেল সরকারের সরকারি ভাষা নির্ধারণ করেছে। কোনো প্রদেশ প্রাদেশিক আইনের মাধ্যমে তার জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠের ব্যবহৃত এক বা একাধিক অতিরিক্ত ভাষাকে সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করতে পারে। এই আইনি কাঠামো পৌরসভা, স্কুল বা সম্প্রদায়ে স্থানীয় ভাষার ব্যবহার নিষিদ্ধ করে না। ২০২১ সালের জাতীয় জনসংখ্যা ও গৃহায়ন আদমশুমারিতে ১২৪টি মাতৃভাষা নথিভুক্ত হয়; এর মধ্যে ১৩টি ভাষা ২০১১ সালের পর নতুনভাবে নথিভুক্ত। জনসংখ্যার ৪৪.৮৬% মানুষের প্রথম ভাষা নেপালি। অন্যান্য বহুল নথিভুক্ত ভাষার মধ্যে মৈথিলি ১১.০৫%, ভোজপুরি ৬.২৪%, থারু ৫.৮৮%, তামাং ৪.৮৮%, বজিকা ৩.৮৯%, আওধি ২.৯৬%, নেপাল ভাষা (নেওয়ার) ২.৯৬%, মগর ধুত ২.৭৮%, ডোটেলি ১.৭০%, উর্দু ১.৪২%, ইয়াকথুং/লিম্বু ১.২০% এবং গুরুং ১.১২%। ভাষার ব্যবহার অঞ্চলভেদে ব্যাপকভাবে আলাদা। মৈথিলি, ভোজপুরি, বজিকা, আওধি, থারু ও উর্দু বিশেষত তরাই ও মধেশ অঞ্চলে প্রচলিত। পাহাড় ও পর্বতাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে নেপালি, তামাং, মগর ধুত, নেপাল ভাষা, গুরুং, ইয়াকথুং/লিম্বু, রাই ও শেরপা প্রচলিত। পশ্চিম ও সুদূর-পশ্চিমের ভাষারূপ ডোটেলি, বৈতাডেলি, আছামি, বাজহাঙ্গি, বাজুরেলি, দার্চুলেলি ও দাদেলধুরির মতো নামেও পরিচিত। কোনো স্থানীয় ভাষারূপকে পৃথক ভাষা না উপভাষা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা উচিত, তা জাতীয় পরিসংখ্যান একাই স্থির করে না। নেপাল বহুভাষিক, কিন্তু দ্বিতীয় ভাষায় প্রবেশাধিকার সমান নয়। আদমশুমারিতে ৪৮.০৮% মানুষ দ্বিতীয় ভাষায় কথা বলেন না বলে জানানো হয়। ১৩,৪৮২,৯০৪ জনের দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে নেপালি নথিভুক্ত হয়েছে, যা ৪৬.২৩%। নির্দিষ্ট স্থান ও পরিস্থিতিতে মৈথিলি, হিন্দি, ভোজপুরি, ইংরেজি, থারু, বজিকা, আওধি ও উর্দুও যোগাযোগ বা শিক্ষার সেতুভাষা হিসেবে কাজে লাগে। এই পরিসংখ্যান জানানো ভাষা-ব্যবহার দেখায়; প্রতিটি সরকারি দপ্তর বা সেবা সব ভাষায় পাওয়া যায়—এ কথা নয়। বৈচিত্র্য সূচক এলাকাভেদে অনেক আলাদা। প্রাদেশিক পর্যায়ে কোশির সূচক সর্বোচ্চ ০.৭৮৮ এবং কর্ণালির সর্বনিম্ন ০.২০৬। জেলাপর্যায়ে সোলুখুম্বুর সূচক ০.৮১৩ এবং জাজারকোটের ০.০২৫। এই সংখ্যা ভাষার কেন্দ্রীভবন বা বিস্তার দেখায়; কোনো জেলা বা পৌরসভায় নির্দিষ্ট সরকারি ভাষার স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। ফেডারেল সরকার সাংবিধানিক কাঠামো দেয়। ভাষা কমিশন, যাকে ভাষা आयोग বলা হয়, ভাষার ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে, সরকারি ভাষার ব্যবস্থা সুপারিশ করে, সংরক্ষণ ও প্রসারে সহায়তা করে এবং ভাষাতথ্য, অনুবাদ ও ডিজিটাইজেশন নিয়ে কাজ করে। প্রদেশগুলো আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে সরকারি ব্যবহারে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। স্থানীয় যোগাযোগ ও শিক্ষার ব্যবস্থা-সহ বাস্তব ভাষা-পরিবেশের বড় অংশ নির্ধারণ করে স্থানীয় সরকার ও স্কুল। অনুচ্ছেদ ৩১(৫) ও ৩২ ভাষাসংশ্লিষ্ট অধিকার রক্ষা করে। মানুষের মাতৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণ এবং সেই উদ্দেশ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের অধিকার রয়েছে; ভাষা ব্যবহার, সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ এবং ভাষা, লিপি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রসারের অধিকারও রয়েছে। এসব বিধান দেশজুড়ে নির্দিষ্ট মাতৃভাষার স্কুল, প্রতিটি সরকারি দপ্তরে অনুবাদ বা প্রতিটি ভাষায় সরকারি সেবার স্বয়ংক্রিয় নিশ্চয়তা দেয় না। শিক্ষক, শিক্ষাসামগ্রী, পরীক্ষার ভাষা, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও স্থানীয় সিদ্ধান্ত বাস্তব প্রবেশাধিকারকে প্রভাবিত করে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এর স্কুল শিক্ষা বিভাগ জাতীয় শিক্ষা নীতি ও স্কুলে ভাষা-প্রবেশাধিকারসংক্রান্ত বিষয় দেখাশোনা করে। ভাষা কমিশন নেপাল ভাষা, মগর, লিম্বু ও ডোটেলির মতো ভাষা নিয়ে সম্ভাব্যতা ও ব্যবহারবিষয়ক গবেষণা করেছে। কোনো গবেষণা বা সাংবিধানিক অধিকার থাকলেই কাছের স্কুলে বর্তমানে সেই ভাষায় পড়ানো হয়—এটি প্রমাণিত হয় না। ফেডারেল জনপরিসরে নেপালির প্রাধান্য থাকলেও স্থানীয় গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড অন্য ভাষায় জনঅংশগ্রহণ বাড়ায়। প্রেস কাউন্সিল নেপাল নেপাল ভাষা ও মৈথিলিতে সাংবাদিকতার আচরণবিধি-সংক্রান্ত কাজ নথিভুক্ত করেছে এবং ডোটেলি, থারু ও ভোজপুরির জন্য অনুবাদ তৈরি করেছে। প্রাপ্যতা ও পরিধি সেবাদাতা, স্থান ও মাধ্যমের ওপর নির্ভর করে। প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে ভাষার সংগ্রহ, লিপি, সাহিত্য, মৌখিক ঐতিহ্য, অভিধান, শব্দকোষ ও ভাষা কোর্সেও সহায়তা দেওয়া হয়। ভাষাসেবার জন্য দেশজুড়ে একক মাশুল বা সময়সীমা নেই। সাধারণত সরকারি ভাষা-অধিকারের জন্য আলাদা ভাষাসেবা ফি লাগে না, তবে বাস্তব খরচ ও অপেক্ষার সময় প্রদেশ, পৌরসভা, স্কুল, দপ্তর বা গণমাধ্যম সেবাদাতার ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই কোনো ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, আদমশুমারিতে উপস্থিতি বা সাংস্কৃতিক গুরুত্ব একা নির্ভরযোগ্য সেবা পাওয়া নিশ্চিত করে না। ভাষা শেখা, সাধারণ যোগাযোগ ও গণমাধ্যম নির্মাণ এই পরিসরের অন্তর্ভুক্ত কেবল তখনই, যখন সেগুলো প্রশাসন, অংশগ্রহণ, সংস্কৃতি বা ভাষার বাস্তব বণ্টনে প্রভাব ফেলে।
নেপালে ভাষা
২০২১ সালের আদমশুমারিতে নেপালে ১২৪টি মাতৃভাষার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে—ভাষার বৈচিত্র্য অত্যন্ত বেশি। সংবিধান নেপালে প্রচলিত প্রতিটি ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়; দেবনাগরী লিপিতে নেপালি হলো ফেডারেল সরকারি ভাষা। প্রদেশগুলো প্রাদেশিক আইনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাকে অতিরিক্ত সরকারি ভাষা করতে পারে, তবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মানেই সর্বত্র সেই ভাষায় স্কুল, অনুবাদ বা সরকারি সেবা পাওয়া নয়।
Tip
নেপালের ভাষাব্যবস্থাকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃত ভাষার তালিকা হিসেবে নয়, নির্দিষ্ট স্থানে প্রবেশাধিকারের প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করুন। সরকারি, শিক্ষা, গণমাধ্যম বা সাংস্কৃতিক প্রয়োজনে আগে প্রদেশ ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করুন; তারপর যাচাই করুন নির্বাচিত ভাষায় সেবা সত্যিই পাওয়া যায় কি না এবং কীভাবে পাওয়া যায়। সেবা, শিক্ষক, উপকরণ বা সেবাদাতার সক্ষমতা নিশ্চিত না হলে নেপালি বা অন্য স্থানীয় সেতুভাষায় বিকল্প রাখুন।

