কাঠমান্ডু উপত্যকা বসতি, ধর্ম, কারুশিল্প ও বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। লিচ্ছবি যুগের পরিচিত নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে শিলালিপি, মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে বিস্তৃত যোগাযোগ। পরবর্তী মল্ল রাজ্যগুলো কাঠমান্ডু, পাটন ও ভক্তপুরে স্বতন্ত্র নগর সংস্কৃতি গড়ে তোলে। উপত্যকার বাইরের জনগোষ্ঠী ও রাজ্যও হিমালয় অঞ্চলের ইতিহাস গঠনে ভূমিকা রাখে; এর মধ্যে তিব্বত ও উত্তর ভারতের সমতলভূমির সঙ্গে যুক্ত এলাকাও রয়েছে। অষ্টাদশ শতকে পৃথ্বী নারায়ণ শাহ ও তাঁর উত্তরসূরিরা গোরখা রাজ্যের বিস্তার ঘটিয়ে বর্তমান নেপালের বড় অংশকে এক রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অধীনে আনেন। পরবর্তী সময়েও শাহ রাজতন্ত্র বজায় ছিল, যদিও ক্ষমতা প্রায়ই প্রভাবশালী পরিবার ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকত। ১৮৪৬ সালের কোট হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিষ্ঠিত রানা শাসনে বংশানুক্রমিক রানা প্রধানমন্ত্রীদের হাতে নির্বাহী ক্ষমতা ছিল, আর শাহ রাজা আনুষ্ঠানিক রাজা হিসেবে থাকেন। রাজা ত্রিভুবনের সমর্থনে রাজনৈতিক চাপ ও সশস্ত্র আন্দোলনের পর ১৯৫১ সালে রানা শাসনের অবসান ঘটে। জনআন্দোলনের পর ১৯৯০ সালে নেপাল সংসদীয় সংবিধান গ্রহণ করে; তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামাজিক বৈষম্য ও অমীমাংসিত দাবির ফলে ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মাওবাদী সংঘাত চলে। শান্তিপ্রক্রিয়ার পর ২০০৮ সালে রাজতন্ত্রের অবসান হয় এবং নেপাল প্রজাতন্ত্র হয়। ২০১৫ সালের সংবিধান নেপালকে ফেডারেল গণতান্ত্রিক প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে নির্ধারণ করে এবং ফেডারেল, প্রাদেশিক ও স্থানীয় স্তরের মধ্যে সরকারি কর্তৃত্ব পুনর্বিন্যাস করে। তাই নেপালের ইতিহাস বুঝতে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পাশাপাশি আঞ্চলিক জনগোষ্ঠী, ধর্মীয় চর্চা, অভিবাসন, বাণিজ্য ও ঐতিহাসিক উৎস সংরক্ষণের দিকেও মনোযোগ দিতে হয়।
নেপালের ইতিহাস
নেপালের ইতিহাসে রয়েছে প্রাচীন হিমালয়ী সমাজ, কাঠমান্ডু উপত্যকার শক্তিশালী রাজ্য, শাহ রাজ্যের বিস্তার, রানা শাসন এবং ফেডারেল গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে উত্তরণ। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি বিকশিত হয়েছে নানা ভাষা, ধর্ম, বাণিজ্যপথ ও আঞ্চলিক ঐতিহ্য। দেশটির বর্তমান প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ স্থানীয় ইতিহাস এবং বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর বড় পরিবর্তনের প্রতিফলন।
Tip
বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো ও আঞ্চলিক পরিচয় কীভাবে গড়ে উঠেছে, তা বুঝতে নেপালের ইতিহাসকে সময়রেখা হিসেবে ব্যবহার করুন। রাজনৈতিক পরিবর্তনকে সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা থেকে আলাদা করে দেখুন; কাঠমান্ডু উপত্যকার ইতিহাসকে পুরো দেশের ইতিহাস ভাববেন না।

