নেপালি ভাষার মূল আইনই কর্তৃত্বপূর্ণ; ইংরেজি অনুবাদ কাজের সহায়ক। ২০১৭ সালের জাতীয় দণ্ডবিধি আইন সাধারণ অপরাধ ও শাস্তি নির্ধারণ করে; মাদক, পরিবহন বা ইলেকট্রনিক লেনদেনের মতো বিষয়ে বিশেষ আইন প্রযোজ্য হতে পারে। ২০৩১ সালের সাক্ষ্য আইন (১৯৭৪) এবং ২০১৭ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি আইন সাক্ষ্য ও ফৌজদারি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে; এর মধ্যে २०७৫ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি বিধিও রয়েছে। প্রাসঙ্গিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগকে জাহেরি বলা হয়; সাধারণত এটি নেপাল পুলিশ বা আইননির্ধারিত অন্য তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে যায়। তফসিল-১-এর অপরাধ সাধারণত পুলিশ তদন্ত করে। তফসিল-২-এর অপরাধ প্রযোজ্য আইনে উল্লিখিত কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে। নেপাল পুলিশ, এর অপরাধ তদন্ত বিভাগসহ, ফৌজদারি মামলা তদন্ত করে; সাইবার ব্যুরো সাইবার অপরাধ তদন্ত করে। তদন্তের নথি সরকারি কৌঁসুলি বা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে যায়; তারা প্রমাণ যাচাই করে, মামলা চালানো হবে কি না ঠিক করে, অভিযোগপত্র তৈরি করে এবং সরকারের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করে। জেলা আদালত, হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে ফৌজদারি মামলা চলে; আইন নির্ধারণ করলে বিশেষায়িত আদালতও হতে পারে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আটকের কারণ জানাতে হবে এবং যাতায়াতের সময় বাদে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করতে হবে। সংবিধান গ্রেপ্তারের পর থেকেই আইনজীবীর সহায়তা, ন্যায্য শুনানি, নির্দোষতার অনুমান, নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য না করার সুরক্ষা এবং আপিলের অধিকারও নিশ্চিত করে। আইনজীবীর খরচ বহন করতে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য আইন অনুযায়ী বিনা মূল্যের আইনি সহায়তা রয়েছে। ভাষার কারণে অংশগ্রহণে সমস্যা হলে কর্তৃপক্ষের উচিত দোভাষীর মাধ্যমে বোঝার সুযোগ নিশ্চিত করা। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে কারাদণ্ড, জরিমানা, ক্ষতিপূরণ, সমাজসেবা, স্থগিত দণ্ড, পরীক্ষামূলক মুক্তি ও প্যারোল রয়েছে। আদালত অপরাধের গুরুত্ব, দোষের মাত্রা, পরিস্থিতি, পূর্ব আচরণ এবং ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ বিবেচনা করে। কারা ব্যবস্থাপনা বিভাগ २०७৯ সালের কারাগার আইনের অধীনে হেফাজত ও কারাদণ্ড পরিচালনা করে; কারাবহির্ভূত ব্যবস্থার প্রাপ্যতা ও বাস্তব প্রয়োগ মামলা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করে। ভুক্তভোগীদের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য জানার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। অপরাধ ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে তারা শারীরিক আঘাত, মৃত্যু, সম্পত্তির ক্ষতি বা সম্মানহানির জন্য পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন; অপরাধীর সম্পদ থেকে তা আদায়ের ব্যবস্থাও হতে পারে। আদালত, আইনজীবী, অনুবাদ, যাতায়াত ও প্রমাণ সংগ্রহের খরচ মামলাভেদে বদলায়; আইনি সহায়তা পাওয়া যায় কি না যাচাই করা উচিত। শিশুর মামলায় ২০১৮ সালের শিশু আইন প্রযোজ্য; শিশু আদালত বা শিশু বেঞ্চ, বিচারের বিকল্প ব্যবস্থা, গোপনীয় শুনানি, পরামর্শ, তত্ত্বাবধান, সমাজসেবা বা শিশু সংশোধনাগার প্রাসঙ্গিক হতে পারে। ১০ বছরের কম শিশুর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলে না। ১০ থেকে ১৪ বছরের কম বয়সে জরিমানা হয় না; আটকের যোগ্য অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাস আটক বা শিশু সংশোধনাগারে সর্বোচ্চ এক বছর রাখা যেতে পারে। ১৪ থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কের সর্বোচ্চ অর্ধেক এবং ১৬ থেকে ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই-তৃতীয়াংশ সাজা প্রযোজ্য। গুরুতর, জঘন্য বা পুনরাবৃত্ত অপরাধ না হলে সাধারণত ১৬ বছরের কম শিশুকে আটক করা হয় না। সড়ক অপরাধ ২০৪৯ সালের মোটরযান ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা আইন (১৯৯৩) এবং এর বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হয়; নেপাল পুলিশ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহন প্রশাসনের কাজ আলাদা। ডিজিটাল অপরাধে २०६३ সালের ইলেকট্রনিক লেনদেন আইন (২০০৮) ও বিধি, জাতীয় দণ্ডবিধি বা অন্য বিশেষ আইন প্রযোজ্য হতে পারে। অননুমোদিত প্রবেশ, সিস্টেম বা তথ্যের অপব্যবহার এবং বেআইনি প্রকাশের মতো বিষয় সাইবার ব্যুরো তদন্ত করতে পারে। নেপালে ফৌজদারি প্রক্রিয়া চুক্তি বা ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণের দেওয়ানি দাবির থেকে আলাদা, যদিও ফৌজদারি মামলায় ক্ষতিপূরণের বিষয়ও থাকতে পারে।
নেপালে ফৌজদারি আইন
নেপালের ফৌজদারি আইন অপরাধমূলক আচরণ, ব্যক্তিগত দায়, তদন্ত, আদালতের কার্যক্রম, শাস্তি এবং অভিযুক্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির অধিকার নির্ধারণ করে। মূল কাঠামো হলো ২০১৭ সালের জাতীয় দণ্ডবিধি আইন, যা মুলুকি অপরাধ সংহিতা २०७৪ নামেও পরিচিত; এর সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন ও বিশেষ আইন রয়েছে। নেপালের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় সহিংসতা, যৌন অপরাধ, চুরি, দুর্নীতি, মাদক, পাচার, সড়ক অপরাধ ও ডিজিটাল অপরাধের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত।
Tip
নেপালের ফৌজদারি বিষয়কে দ্রুত নথি সংরক্ষণ, সঠিক কর্তৃপক্ষ শনাক্তকরণ ও আইনি সহায়তা প্রয়োজন এমন মামলা হিসেবে বিবেচনা করুন। অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ, মামলার ধাপ, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও প্রাসঙ্গিক তারিখ লিখে রাখুন; নেপালি মূল আইন প্রযোজ্য হলে ইংরেজি অনুবাদের ওপর নির্ভর করবেন না। গ্রেপ্তার, শিশুর সংশ্লিষ্টতা, সহিংসতা, ডিজিটাল প্রমাণ বা সম্ভাব্য কারাদণ্ড থাকলে দ্রুত যোগ্য আইনি সহায়তা নিন এবং বিনা মূল্যের আইনি সহায়তার সুযোগ যাচাই করুন।

