নেপালের দেওয়ানি আইনে স্বাভাবিক ও আইনি ব্যক্তি, আইনি সক্ষমতা, অপ্রাপ্তবয়স্কতা, অভিভাবকত্ব ও প্রতিনিধিত্ব অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত 18 বছরের কম বয়সী ব্যক্তি অপ্রাপ্তবয়স্ক। নির্দিষ্ট নিয়মে নেপালি নাগরিকের জন্য সীমিত না হলে বিদেশিদের ক্ষেত্রেও সাধারণত আইন প্রযোজ্য। আইনবিরোধী প্রথা বা ঐতিহ্যের কোনো কার্যকারিতা নেই। দেওয়ানি বিধিতে চুক্তি, প্রতিনিধি, ইজারা, বিক্রয়, ঋণ ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা নিয়ন্ত্রিত হয়। বাধ্যবাধকতা আইন, চুক্তি, আধা-চুক্তি, অন্যায় সমৃদ্ধি, একতরফা অঙ্গীকার, ক্ষতিকর কাজ বা আধা-ক্ষতিকর কাজ থেকে সৃষ্টি হতে পারে। পক্ষগুলোর সদ্ভাবে চুক্তি পালন করা উচিত। পালন না করা বা বিলম্বে প্রকৃত ক্ষতির ক্ষতিপূরণ লাগতে পারে; প্রতারণা, ইচ্ছাকৃত কাজ বা অবহেলায় আরও বিস্তৃত দায় হতে পারে। বাধ্যবাধকতার সাধারণ দাবি-সময়সীমা 2 বছর, তবে বিশেষ আইনে অন্য সময়সীমা থাকতে পারে। সম্পত্তি আইনে অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা, দখল, ব্যবহার ও হস্তান্তর রয়েছে। এতে পারিবারিক সম্পত্তি, যৌথ মালিকানার সম্পত্তি ও বণ্টনও আছে। ভূমি ব্যবস্থাপনা ও নথি বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট মালপোত কার্যালয় नामसारी, दाखिल खारेज এবং रोक्का বা তার অবমুক্তির মতো জমি নিবন্ধনের বিষয় দেখে। নিবন্ধন ফি ও সেবা চার্জ প্রযোজ্য আঞ্চলিক বা স্থানীয় হারের ওপর নির্ভর করে। উত্তরাধিকার বা বণ্টনের মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তি পাওয়া বিদেশির নামসারি, নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট আয় ব্যবহারের জন্য সাধারণত সরকারি অনুমোদন লাগে। পারিবারিক আইনে বিয়ে, অবৈধ বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, পিতা-মাতা ও সন্তানের সম্পর্ক, দত্তক, সম্পত্তি বণ্টন এবং যৌথ পরিবারের বিষয় রয়েছে। লিঙ্গভেদ ছাড়া সন্তানের সমান উত্তরাধিকার অধিকার আছে। পারিবারিক বিরোধ সাধারণত দেওয়ানি বিষয়, তবে সহিংসতা ও অপরাধমূলক আচরণ ফৌজদারি আইনের আওতায়ও পড়তে পারে। উত্তরাধিকার আইনে উত্তরাধিকারের জন্য अपुताली এবং আইনগত অগ্রাধিকারসহ উত্তরাধিকারীর জন্য हकवाला ধারণা আছে। সম্পত্তি হস্তান্তর ও নিবন্ধনে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া লাগতে পারে; বিধির সীমার মধ্যে সম্পত্তির ঋণ বা দায় এবং অভিভাবকের দায়বদ্ধতা প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তঃসীমান্ত সম্পত্তি বা সম্পত্তি-সংক্রান্ত উত্তরাধিকারে আন্তর্জাতিক ব্যক্তিগত আইন ও জনশৃঙ্খলার বিধিনিষেধও জড়িত হতে পারে। প্রমাণ ও প্রয়োজনীয় অনুলিপিসহ স্থানীয়ভাবে ফিরাদপত্র (फिरादपत्र) নামে পরিচিত লিখিত আরজির মাধ্যমে দেওয়ানি দাবি দায়ের হয়। আদালত আনুষ্ঠানিক শর্ত যাচাই করে; বিবাদী प्रतिउत्तरपत्र নামে জবাব দিতে পারেন। পাল্টা দাবিও সম্ভব হতে পারে। নেপালে সুপ্রিম কোর্ট, 11টি বেঞ্চসহ 7টি হাইকোর্ট এবং 77টি জেলা আদালত আছে; আইন অনুযায়ী এখতিয়ারপ্রাপ্ত অন্য বিচারিক সংস্থাও থাকতে পারে। আপিল ও তদারকি-পর্যালোচনা নির্ভর করে এখতিয়ারপ্রাপ্ত আদালত ও প্রযোজ্য প্রক্রিয়ার ওপর। দাবির অঙ্ক, মূল্য ও প্রাসঙ্গিক তফসিল অনুযায়ী সাধারণত বাদীকে আদালত ফি দিতে হয়। দেরিতে করা দাবি বাধ্যতামূলক তামেলাদ—স্থানীয়ভাবে हदम्याद নামে পরিচিত—সময়সীমার কারণে প্রত্যাখ্যাত বা খারিজ হতে পারে। মামলা চলার সময় আদালত, প্রমাণ, প্রক্রিয়াগত বিষয় ও পক্ষের আচরণ অনুযায়ী বদলে যায়। মধ্যস্থতা আইন 2068-এর অধীনে মধ্যস্থতা এবং সালিশ আইন 2055-এর অধীনে সালিশ সম্ভব, যখন চুক্তি বা আইন তা অনুমতি দেয়। গ্রামীণ পৌরসভার ভাইস-চেয়ারপারসন বা পৌরসভার ডেপুটি মেয়র স্থানীয় বিচারিক কমিটির সমন্বয় করেন; এতে আরও 2 জন নির্বাচিত সদস্য থাকেন। কমিটি আবেদন গ্রহণ, মধ্যস্থতা উৎসাহিত এবং তালিকাভুক্ত মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ছোট বা স্থানীয় বিরোধ মেটাতে পারে। নির্দিষ্ট জমি দখল ও কাঠামো-সংক্রান্ত বিরোধে তার আইনি কর্তৃত্বের অধীনে মধ্যস্থতা লাগতে পারে। কমিটি সিদ্ধান্ত দিতে না পারলে বা সমঝোতা না হলে সরাসরি আদালতে যাওয়া বন্ধ হয় না। বিধিবদ্ধ সময়সীমা না থাকা তালিকাভুক্ত স্থানীয় বিরোধে আবেদনের সময় 35 দিন; নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যস্থতা বিবাদী হাজির হওয়ার 3 মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য আছে। রায়ের পর তাহসিল শাখা বা তাহসিলদার তা কার্যকর করেন। সাধারণত 3 দিনের মধ্যে রায় কার্যকরকরণ রেজিস্টারে নথিভুক্ত হয়। কার্যকরকরণে দখল, নামসারি, বণ্টন, বন্ধক মুক্তি, ঋণ, ক্ষতিপূরণ, জরিমানা ও আদালত ফি থাকতে পারে; আলাদা আবেদন এবং সম্পদের পরিচয় লাগতে পারে। আপিলের অবস্থা রায় কার্যকরের সময়কে প্রভাবিত করতে পারে। আইনি সহায়তা আইন 2054 এবং আইনি সহায়তা বিধি 2055 আর্থিক বা সামাজিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের পরামর্শ, আরজি, প্রতিনিধিত্ব ও অন্যান্য আইনি সেবার ভিত্তি দেয়। কেন্দ্রীয় ও জেলা আইনি সহায়তা কমিটি সাহায্য করতে পারে; অসহায়, প্রতিবন্ধী, অপ্রাপ্তবয়স্ক, দরিদ্র বা আটক পক্ষের জন্য আদালত-নিযুক্ত আইনজীবী বা বিনা ফি-র ব্যবস্থা থাকতে পারে। মোট খরচে আদালত ফি, জমি নিবন্ধন চার্জ, আইনজীবী বা নোটারি ফি, মূল্যায়ন, অনুলিপি, জারি, মধ্যস্থতা বা সালিশ ফি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। অঙ্ক ও সময় দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, প্রদেশ বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণের ওপর নির্ভর করে।
নেপালে দেওয়ানি আইন
নেপালে দেওয়ানি আইন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত আইনি সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে; এর মধ্যে চুক্তি, সম্পত্তি, পারিবারিক বিষয়, উত্তরাধিকার, দায়, আদালতের কার্যক্রম ও রায় কার্যকর করা রয়েছে। প্রধান সংহত কাঠামো মুলুকি দেওয়ানি বিধি 2074, যা জাতীয় দেওয়ানি বিধি 2017 নামেও পরিচিত; এর সঙ্গে মুলুকি দেওয়ানি কার্যবিধি 2074, বা জাতীয় দেওয়ানি কার্যবিধি 2017, প্রযোজ্য। দুটিই 2075-05-01 তারিখে কার্যকর হয়। সংবিধান সর্বোচ্চ আইনি মানদণ্ড; প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিশেষ আইন সাধারণ বিধির ওপর প্রাধান্য পায়।
Tip
নেপালের দেওয়ানি আইনে পদক্ষেপ নিতে আগে আইনি সমস্যা, এখতিয়ারপ্রাপ্ত সংস্থা ও প্রযোজ্য সময়সীমা শনাক্ত করুন; তারপর খরচ করুন বা অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করুন। সময়সীমা, বিদেশি সম্পত্তির মালিকানা, আদালতের এখতিয়ার বা আপিলের অবস্থা অস্পষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ ও নথি সংরক্ষণ করুন। নির্দিষ্ট বিরোধে বিচারিক কমিটি, মধ্যস্থতা বা সালিশ মানানসই হতে পারে, তবে বিকল্প সংস্থার ক্ষমতা না থাকলে বা সমঝোতা না হলে আদালতের কার্যক্রম দরকার।

