ভারতে নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত সচেতনতা, সাবধানে ভ্রমণ, স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সতর্কতা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি প্রয়োজন। বড় শহর, ছোট শহর, গ্রাম, পাহাড়ি অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার ঝুঁকি একে অপরের থেকে অনেক আলাদা। সড়কপথের যানবাহন প্রতিদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ। একই সময়ে রাস্তায় গাড়ি, মোটরসাইকেল, বাস, সাইকেল, পশু ও পথচারী থাকতে পারে। তাই রাস্তা পার হওয়া এবং অন্ধকারের পর যাতায়াতের সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। গণপরিবহনের মধ্যে মেট্রো ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রিত ট্যাক্সির পাশাপাশি বাস, অটোরিকশা এবং ভাগাভাগি করে ব্যবহৃত যানবাহনও রয়েছে। ভ্রমণকারীদের রুট নিশ্চিত করা, সহজে শনাক্ত করা যায় এমন সেবা ব্যবহার করা, নিজেদের জিনিসপত্রের নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং অনিরাপদ মনে হয় এমন কোনো যানবাহনে না ওঠা উচিত। ভিড়ের বাজার, স্টেশন, উৎসব ও ধর্মীয় স্থান বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠতে পারে। পরিবার ও দলগুলো আগে থেকেই একটি মিলিত হওয়ার স্থান ঠিক করে এবং শিশুদের কাছে রাখলে উপকৃত হয়। কিছু পরিস্থিতিতে নারীরা অনাকাঙ্ক্ষিত মনোযোগ বা হয়রানির শিকার হতে পারেন। যেখানে পাওয়া যায়, সেখানে শুধু নারীদের জন্য ট্রেনের কামরা, সংরক্ষিত আসন, বিশ্বস্ত পরিবহন এবং যাত্রার বিবরণ অন্যদের জানিয়ে রাখা স্থানীয়ভাবে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গরম, বর্ষার বৃষ্টি, বায়ুদূষণ, ভবঘুরে প্রাণী এবং হাঁটার অনুপযোগী রাস্তার পৃষ্ঠও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করতে পারে। উপযুক্ত পোশাক, নিরাপদ পানীয় জল, আবহাওয়া সম্পর্কে সচেতনতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে ধীরে চলা এড়ানো সম্ভব এমন ক্ষতি প্রতিরোধে সহায়তা করে। পুলিশ পরিষেবা মূলত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর মাধ্যমে সংগঠিত হয়, আর জাতীয় জরুরি নম্বর 112 জরুরি সহায়তার সঙ্গে যোগাযোগ করানোর জন্য নির্ধারিত। স্থানীয় সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা এবং ইংরেজিতে যোগাযোগের সুযোগ ভিন্ন হতে পারে। তাই নিকটতম থানার, হাসপাতালের এবং বিশ্বস্ত স্থানীয় ব্যক্তির তথ্য জানা উপকারী। সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করলে ভারতে চলাফেরা সাধারণত সম্ভব, তবে কোনো নিয়মই সব ঝুঁকি দূর করে না। স্থানীয় জ্ঞান, আগে থেকে পরিকল্পনা করা এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে সরে যাওয়া হলো সবচেয়ে কার্যকর মৌলিক সুরক্ষা।
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ভারতে
ভারতে নিরাপত্তা স্থান, সময়, যাতায়াতের মাধ্যম ও পরিস্থিতির ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। দৈনন্দিন অধিকাংশ কাজ স্বাভাবিক হলেও ভারী যানবাহন, ভিড়, অপরিচিত পরিবেশ, গরম এবং অসমান অবকাঠামোর কারণে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সামান্য প্রস্তুতি এবং বিশ্বস্ত স্থানীয় মানুষের পরামর্শ অনেক সাধারণ ঝুঁকি কমাতে পারে।
Tip
ভারতে নিরাপত্তাকে সারাক্ষণ ভয়ের কারণ হিসেবে না দেখে প্রতিদিনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তের সমষ্টি হিসেবে বিবেচনা করুন। যাতায়াতের পরিকল্পনা করুন, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সুরক্ষিত রাখুন এবং অন্ধকারের পর বদলে যেতে পারে এমন স্থান বা রুট সম্পর্কে বিশ্বস্ত স্থানীয় মানুষের পরামর্শ নিন। কোনো পরিস্থিতি অস্বস্তিকর মনে হলে ব্যস্ত, আলোকিত স্থানে চলে যান এবং দ্রুত সাহায্য নিন।

