ভারতে বিভিন্ন স্তরে নির্বাচন হয়। ভোটারেরা সরাসরি লোকসভা, রাজ্য বিধানসভা এবং অনেক স্থানীয় সংস্থার সদস্য নির্বাচন করেন। রাজ্যসভা ও অন্য কিছু পদের সদস্যদের সারা দেশের জনসাধারণের ভোটে নয়, পরোক্ষ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বেছে নেওয়া হয়। ভারতের নির্বাচন কমিশন সংসদ, রাজ্য আইনসভা এবং রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন পরিচালনা করে। পঞ্চায়েত ও শহুরে স্থানীয় সংস্থার নির্বাচন তদারকি করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এগুলো আলাদা সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ এবং তাদের দায়িত্বের ক্ষেত্রও ভিন্ন। সরাসরি নির্বাচনে একটি এলাকাকে নির্বাচনী কেন্দ্রে ভাগ করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্র একজন প্রতিনিধি নির্বাচন করে; বৈধ ভোটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থী সাধারণত জেতেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও। কিছু কেন্দ্র তফসিলি জাতি বা তফসিলি জনজাতির প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে, তবে সেখানে নিবন্ধিত সব যোগ্য ভোটার ভোট দিতে পারেন। রাজনৈতিক দল প্রার্থী মনোনয়ন দেয়; স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন। সভা, বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ, গণমাধ্যম ও জনবিতর্কের মাধ্যমে প্রচারে প্রার্থী ও কর্মসূচি পরিচিত হয়। নির্বাচনী নিয়মের উদ্দেশ্য ন্যায্যতা রক্ষা, আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি কর্তৃত্বের অপব্যবহার সীমিত করা। নাগরিককে যোগ্য হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকায় নাম থাকতে হবে। ভোটার পরিচয়পত্র নিবন্ধন ও পরিচয়ের কাজে লাগে, তবে ওই ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার অধিকার নির্ধারণে ভোটার তালিকাই চূড়ান্ত নথি। তাই নির্বাচনের আগে নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করা উচিত। ভোট গোপন। সাধারণত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার হয় এবং কাগজের নিরীক্ষা-ব্যবস্থায় ভোটার তার পছন্দটি নথিভুক্ত হয়েছে কি না যাচাই করতে পারেন। ব্যালটে NOTA—অর্থাৎ None of the Above বা ‘উপরের কেউ নন’—থাকতে পারে, তবে এটি পদে বসতে পারে এমন প্রার্থীর মতো কাজ করে না। ভোটকেন্দ্রে কর্মকর্তারা ভোটারের পরিচয় যাচাই করেন, ভোট দেওয়ার চিহ্ন দেন এবং গোপনে ভোট দিতে নির্দেশনা দেন। পরে সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় ভোট গণনা হয় এবং একেকটি নির্বাচনী কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়। অভিযোগ ও বিরোধের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে জননেতৃত্বে প্রভাব ফেলতে পারেন এবং প্রতিনিধিরা ভোটারের কাছে জবাবদিহি করেন। ভুল তথ্য, ভয় দেখানো, বেআইনি প্রলোভন, পরিচয়ভিত্তিক বিদ্বেষ বা প্রার্থীদের সম্পর্কে কম জ্ঞান এই প্রক্রিয়ার মূল্য কমাতে পারে। সতর্কভাবে নিবন্ধন করা, স্বাধীনভাবে তুলনা করা, গোপনে ভোট দেওয়া এবং সমস্যা আইনসম্মতভাবে জানানো প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে।
ভারতে নির্বাচন
ভারতে নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকেরা সংসদ, রাজ্য আইনসভা ও স্থানীয় সংস্থার প্রতিনিধি বেছে নেন। অধিকাংশ নির্বাচনে ভৌগোলিক নির্বাচনী এলাকায় ভোটাররা সাধারণত গোপন ব্যালটে একজন প্রার্থীকে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে অংশ নিতে সঠিক ভোটার তালিকায় নাম থাকা জরুরি।
Tip
ভারতে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনার অনেক আগে ভোটার তালিকায় আপনার নাম, ঠিকানা ও নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের এলাকা যাচাই করুন। ফরোয়ার্ড করা বার্তার বদলে প্রার্থীদের দায়িত্ব, কাজের রেকর্ড ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব তুলনা করুন। ভোটকেন্দ্রে ভোটের গোপনীয়তা বজায় রাখুন এবং গুরুতর সমস্যা উপযুক্ত নির্বাচন কর্তৃপক্ষকে জানান।

