সংস্কৃতি: ভারতে

ভারতের সংস্কৃতি আঞ্চলিক, ধর্মীয়, ভাষাগত ও পারিবারিক ঐতিহ্যের এক সমৃদ্ধ সমাহার। রাজ্য, শহর, গ্রাম ও সম্প্রদায়ভেদে দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই আলাদা হতে পারে। তাই একটি রীতিই পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করে ধরে নেওয়ার চেয়ে শ্রদ্ধাপূর্ণ কৌতূহল বেশি কার্যকর।

Tip

ভারতের সংস্কৃতিকে স্থির নিয়মের তালিকার বদলে বৈচিত্র্যময় এক পরিসর হিসেবে দেখুন। লক্ষ্য করুন, ভদ্রভাবে জিজ্ঞেস করুন এবং নির্দিষ্ট বাড়ি, কর্মক্ষেত্র বা সম্প্রদায় অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নিন। নিখুঁত জ্ঞানের চেয়ে সম্মানের ছোট ছোট প্রকাশ সাধারণত বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

জীবনের পর্যায়

ভারতে জীবনের পর্যায় পরিবার, শিক্ষা, কাজ, সম্পর্ক, বিশ্বাস ও স্থানীয় প্রত্যাশা দ্বারা গঠিত হয়। সবার জন্য অনুসরণীয় কোনো একক সময়সূচি নেই। ব্যক্তিগত পছন্দের পাশাপাশি জীবনের বিভিন্ন পর্বে কর্তব্য সম্পর্কে পুরোনো ধারণাও মানুষ বড় হওয়া ও বার্ধক্যকে কীভাবে বোঝে, তাতে প্রভাব ফেলে।

ইতিহাস

ভারতের ইতিহাস প্রাচীন নগরসভ্যতা ও নানা রাজ্য থেকে ঔপনিবেশিক শাসন, স্বাধীনতা এবং আধুনিক প্রজাতন্ত্র পর্যন্ত বিস্তৃত। বাণিজ্য, অভিবাসন, ধর্ম, ভাষা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে উপমহাদেশটি বৃহত্তর বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ভারতের অতীতের একটি সরল কাহিনি নেই; তা বুঝতে একাধিক অঞ্চল ও দৃষ্টিভঙ্গি জানা জরুরি।

শিল্পকলা

ভারতের শিল্পকলার মধ্যে রয়েছে প্রাচীন ভাস্কর্য, রাজদরবারের চিত্রকলা, আঞ্চলিক হস্তশিল্প, পরিবেশনা, সিনেমা ও সমকালীন শিল্পকর্ম। একই শিল্পরীতিতে পবিত্র আচার, গল্পকথন, সম্প্রদায়ের পরিচয় এবং দৈনন্দিন সাজসজ্জা মিলিত হতে পারে। প্রতিটি ঐতিহ্যের নিজস্ব শিল্পী, উপকরণ, অর্থ ও নিয়ম রয়েছে।

ধর্ম

ভারতের ধর্মীয় পরিসরে হিন্দুধর্ম, ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম, শিখধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম এবং অন্যান্য জীবন্ত ধর্মীয় ঐতিহ্য রয়েছে। বিশ্বাস উৎসব, খাবার, পারিবারিক জীবন, পোশাক, তীর্থযাত্রা, দান ও দৈনন্দিন রীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ভারত ধর্মীয়ভাবে বৈচিত্র্যময়; কোনো একজনকে একটি সম্পূর্ণ ধর্মের প্রতিনিধি ধরে নেওয়া উচিত নয়।

ভাষা

ভারতে বহু ভাষা, লিপি ও আঞ্চলিক কথ্যগোষ্ঠীর কারণে ভাষাগত বৈচিত্র্য অনেক। নির্দিষ্ট পরিবেশে হিন্দি ও ইংরেজি বহুল ব্যবহৃত হলেও রাজ্য ও স্থানীয় ভাষার গুরুত্ব কমে যায় না। কথোপকথনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ভাষা নির্ভর করে ব্যক্তি, স্থান ও উদ্দেশ্যের ওপর।

ঐতিহ্য

ভারতের ঐতিহ্য উৎসব, খাবার, পোশাক, উপাসনা, সংগীত, কারুশিল্প ও জীবনের নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিবার ও জনগোষ্ঠীকে যুক্ত করে। অঞ্চল, ধর্ম, জাত, জনজাতি, ভাষা ও পরিবারভেদে ঐতিহ্যের রূপ ভিন্ন। আধুনিক জীবন ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়েও ঐতিহ্য বদলায়।

একসঙ্গে বসবাস

ভারতে একসঙ্গে বসবাসের অর্থ হলো বিপুল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যে ঘরবাড়ি, পাড়া, স্কুল, কর্মস্থল ও জনপরিসর ভাগ করে নেওয়া। পরিবার ও সম্প্রদায়ের বন্ধন শক্তিশালী সহায়তা দিতে পারে, আবার মর্যাদা, বিশ্বাস, ভাষা ও সম্পদের পার্থক্য বাধা তৈরি করতে পারে। দৈনন্দিন সহাবস্থান নির্ভর করে পারস্পরিক সম্মান, যোগাযোগ, ন্যায্যতা ও বাস্তব সহযোগিতার ওপর।