বাংলাদেশে পরিচিতি বা পরিচিত শব্দ দিয়ে সীমিত বা গড়ে উঠতে থাকা সামাজিক সম্পর্কের কোনো ব্যক্তিকে বোঝানো হতে পারে; প্রসঙ্গভেদে আলাপ পরিচিতজন বা কথোপকথনও বোঝায়। মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের উপযোগী স্থান ও কার্যক্রমের মধ্যে আছে সরকারি গণগ্রন্থাগার, যুব উন্নয়ন ও ক্রীড়া কর্মসূচি, বাংলাদেশ স্কাউটস, নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম এবং সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত কমিউনিটি সেন্টার। গণগ্রন্থাগারে পাঠকসেবা, তথ্যসেবা এবং কখনো বিনা মূল্যে ইন্টারনেট থাকতে পারে; তবে খোলার সময়, প্রবেশের নিয়ম ও ফি জেলা বা পৌরসভাভেদে আলাদা। যুব, ক্রীড়া ও স্বেচ্ছাসেবার সুযোগও কর্মসূচি এবং স্থানীয় যোগ্যতার নিয়মের ওপর নির্ভর করে। গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ক্রীড়া অধিদপ্তর, বাংলাদেশ স্কাউটস, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী তথ্যব্যবস্থা, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন—প্রতিটি নিজ নিজ কাজের ক্ষেত্রে সুযোগ দিতে পারে, কিন্তু কোনোটি জাতীয় পরিচিতি-সেবা নয়। স্কাউটসের অ্যাকাউন্টে পূর্ণ নাম, NID বা জন্মনিবন্ধন নম্বর, ইমেইল বা ব্যবহারকারীর নাম, মোবাইল নম্বর ও লিঙ্গ চাওয়া হতে পারে; এটি ওই কর্মসূচির শর্ত, সব সামাজিক যোগাযোগের নয়। কমিউনিটি সেন্টার ব্যবহারে ফি লাগতে পারে। গবেষণার সময়ের ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদাহরণে ১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮টি ব্যবহারযোগ্য ছিল এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া নেওয়া হতো; এই উদাহরণ জাতীয় নিয়ম প্রমাণ করে না। দৈনন্দিন পরিচয় পড়াশোনা, চাকরি, প্রতিবেশ, কমিউনিটি বা স্বেচ্ছাসেবার পরিবেশে গড়ে উঠতে পারে; যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়া উচিত পারস্পরিক এবং স্পষ্ট সম্মতির ভিত্তিতে। বয়স, লিঙ্গ, সামাজিক অবস্থান, পরিবার বা কমিউনিটি, ধর্ম বা জাতিগোষ্ঠী এবং শহর বা গ্রামের পরিবেশ প্রবেশাধিকার ও গ্রহণযোগ্য সীমারেখায় প্রভাব ফেলতে পারে; তাই সর্বত্র প্রযোজ্য একক জাতীয় শিষ্টাচার নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা বার্তাসেবায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ পরিচয় প্রমাণ করে না। বাংলাদেশ পুলিশ অচেনা বা অল্পপরিচিত অনলাইন ব্যক্তিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্বাস না করতে সতর্ক করে এবং অল্প অনলাইন পরিচয়ের পর সরাসরি সাক্ষাৎকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে। প্রথমবার দেখা হলে দিনের বেলা জনসমাগমস্থল বেছে নিন, বিশ্বস্ত কাউকে জানান এবং নিজের যাতায়াত বা চলে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখুন। যোগাযোগ বেড়েছে বলেই NID নম্বর, বাড়ির ঠিকানা, সরাসরি অবস্থান, আর্থিক তথ্য বা অন্তরঙ্গ ছবি-ভিডিও দেবেন না; না বলা, উত্তর না দেওয়া বা ব্লক করা বৈধ সীমারেখা। সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদ চিঠিপত্র ও অন্যান্য যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষা করে; হয়রানি বা অন্য অসদাচরণে বর্তমান আইনগত মূল্যায়ন লাগতে পারে। জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার তালিকায় সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ বর্তমান বিধান হিসেবে রয়েছে; সর্বশেষ সরকারি অবস্থান যাচাই না করে সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩-কে বর্তমান ভিত্তি ধরে নেওয়া উচিত নয়। প্রতিশোধমূলক কিছু প্রকাশ না করে স্ক্রিনশট, URL, সময়, কলার আইডি ও অর্থপ্রদানের অনুরোধ সংরক্ষণ করুন। জরুরি অবস্থায় বাংলাদেশ পুলিশ বা ৯৯৯, নারী বা শিশুর প্রতি সহিংসতায় ১০৯, শিশু সহায়তায় ১০৯৮, সরকারি আইনগত সহায়তায় ১৬৪৩০, সরকারি তথ্যের জন্য ৩৩৩ এবং সাইবার অভিযোগে report.ncsa.gov.bd বা ৩৩৩(৮)-এ যোগাযোগ করুন। পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন নারীদের জন্য সাইবার সহায়তার একটি বিকল্প। পরিচিতজনের সম্পর্কের নিজস্ব কোনো আইনগত মর্যাদা, অধিকার বা যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই; ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব বা প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেওয়া আলাদা সামাজিক বিষয়।
বাংলাদেশে পরিচিতজন
বাংলাদেশে পরিচিতজন বলতে পড়াশোনা, কাজ, প্রতিবেশ, কমিউনিটি কার্যক্রম, স্বেচ্ছাসেবা বা অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রাথমিক, সীমিত বা পরিস্থিতিনির্ভর যোগাযোগ বোঝায়। এ ধরনের পরিচিতির জন্য কোনো সরকারি জাতীয় শ্রেণি বা কর্তৃপক্ষ নেই; সুযোগগুলো বিচ্ছিন্ন এবং প্রধানত অনানুষ্ঠানিক। যৌথ কার্যক্রম ও জনসমাগমস্থল সাধারণত তুলনামূলক নিরাপদে পরিচিত হওয়ার সুযোগ দেয়, আর অনলাইন যোগাযোগে পরিচয় সতর্কভাবে যাচাই ও স্পষ্ট সীমারেখা বজায় রাখা দরকার।
Tip
বাংলাদেশে নতুন পরিচিতির জন্য যৌথ কার্যক্রম বা জনসমাগমস্থল সাধারণত নিরাপদ সূচনা। অল্প অনলাইন যোগাযোগকে যাচাইহীন ধরে নিন, ব্যক্তিগত তথ্যের সীমা নির্ধারণ করুন এবং প্রথম সাক্ষাতে নিজের চলে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখুন। যোগাযোগ হয়রানি, হুমকি বা সাইবার নির্যাতনে রূপ নিলে দ্রুত আনুষ্ঠানিক সহায়তা নিন।

